প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী (১৪) প্রেমের ফাঁদে ফেলে পাঁচ দিন ধরে আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে ভুক্তভোগীর বাবার দায়ের করা মামলায় পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে, তবে মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের মো. জাহেদ আহমেদ (২৪), রাজনগর উপজেলার খারপাড়া গ্রামের রাজু আহমেদ (২২) এবং একই উপজেলার বাহাদুরগঞ্জ গ্রামের জুবেল মিয়া (৩০)। মামলার অপর আসামি, রাজনগর হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা কবির (৩০), এখনও পলাতক রয়েছে। এদিকে, ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রধান অভিযুক্ত জাহেদ আহমেদের সঙ্গে মোবাইলের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকালে তাকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নেওয়া হয়। পরে মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রাজনগরের বাহাদুরগঞ্জে আসামি জুবেল মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সহযোগীদের সহায়তায় রাতভর ওই ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়।
এরপর ১৩ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত জাহেদের বাড়িতে আটক রেখে ওই ছাত্রীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। টানা নির্যাতনের ফলে ছাত্রীটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে আসামিরা তাকে কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের একটি নির্জন সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর কমলগঞ্জ থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর ভোরে পৃথক স্থান থেকে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করে।
কমলগঞ্জ থানার ওসি কমর উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক আসামি কবিরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন