প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চেক প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত টেলিভিশন ও রেডিওর অর্থায়নব্যবস্থা পরিবর্তনের সরকারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে সরকারি গণমাধ্যমের ওপর সরকারের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানী প্রাগের ওল্ড টাউন স্কয়ারে বিক্ষোভকারীরা প্রস্তাবিত আইন প্রত্যাহারের জন্য দাবি জানান। পরিকল্পনার আওতায়, পরিবারগুলোর কাছ থেকে নেওয়া নিয়মিত লাইসেন্স ফি তুলে দিয়ে সরকারি টেলিভিশন ও রেডিওর অর্থায়ন রাষ্ট্রীয় বাজেটের মাধ্যমে করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শনিবার গভীর রাতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বিরল এক ভোটাভুটির মাধ্যমে বিলটি দ্রুত পাসের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। ক্ষমতাসীন জোটের আইনপ্রণেতারা দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি উত্থাপন করায় বিরোধী দলগুলোর বিতর্কে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে আইনটি কার্যকর করতে হলে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিশের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট বিলটি উত্থাপন করেছে। এই জোটে দুটি কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক দলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিরোধী দলগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে তারা সাংবিধানিক আদালতে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করবে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে সরকারি টেলিভিশন ও রেডিওর অর্থায়ন প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। আগামী বছর থেকেই এই কাটছাঁট কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা ‘আমরা আর সহ্য করব না’ এবং ‘এটি কোনোভাবেই পাস হতে দেওয়া যাবে না’ বলে স্লোগান দেন।
বাবিশের দাবি, এই পরিকল্পনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় আঘাত নয়; বরং অর্থায়নব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং ব্যয় কমানোর উদ্যোগ। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লে ক্ষমতাসীন জোট সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে।
এ নিয়ে সমালোচকেরা হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ও স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সরকারের গণমাধ্যমসংক্রান্ত পদক্ষেপের সঙ্গে প্রস্তাবটির তুলনা করছেন।
এদিকে, সরকারি টেলিভিশন ও রেডিওর কর্মীরা আগামী ৩ নভেম্বর ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। শ্রমিক ইউনিয়ন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গির্জা, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থাসহ বিভিন্ন পক্ষ এ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
আগামী ১৫ নভেম্বর প্রাগের লেতনা পার্কে আরও একটি সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ১৯৮৯ সালের কমিউনিস্টবিরোধী ‘ভেলভেট বিপ্লব’-এর বার্ষিকীর দুই দিন আগে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ায় চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন