প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
থাইল্যান্ডে একটি স্কুলে বন্দুকের সাথে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। স্কুল চলাকালীন একের পর এক গুলি করে শিক্ষক সহ ৬ জনকে মেরে ফেলেছে সে। এরপর নিজের জীবনও শেষ করে দিয়েছে সে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ননথাবুরির বাং কুরাই জেলার সুপরিচিত ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে ঘটেছে এই ভয়াবহ ঘটনা। হামলার সময় স্কুলটির দৈনন্দিন কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায়।
এ ঘটনায় আরও ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা দিয়েছে দেশটির জাতীয় পুলিশ।
থাইল্যান্ডের শিক্ষামন্ত্রী প্রসার্ত জান্তারারুয়াংথং জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—দুই ধরনের মানুষ রয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, হামলাকারী ওই স্কুলেরই একজন শিক্ষার্থী।
ঘটনার পর আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসে। আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষক কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়।
জরুরি সেবাকর্মীদের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একজন আহতকে অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে স্ট্রেচারে শোয়ানো হয়েছে এবং আরেকজনকে চিকিৎসাকর্মীরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন।
১৮ বছরের একজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, প্রথমে বুঝতে পারিনি যে এটি গুলির শব্দ। শুরুতে ভেবেছিলাম বাইরে কেউ আতশবাজি ফাটাচ্ছে বা কোনো কিছুতে জোরে আঘাত করছে। একের পর এক অনেক গুলির শব্দ হচ্ছিল। এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা, তারপর আবার গুলি শুরু হয়।
থাই জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ত্রিরং ফোফান জানিয়েছেন, মোট ৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
চলতি বছরের মধ্যে এটি থাইল্যান্ডের স্কুলে দ্বিতীয় বন্দুক হামলার ঘটনা। এর পূর্বে ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি স্কুলে গুলির ঘটনায় একজন শিক্ষক নিহত এবং একজন শিক্ষার্থী আহত হন।
জানা যায়, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বর্তমানে সাধারণ নাগরিক পর্যায়ে ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন