প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরের খানসামায় বিএনপির র্যালি ও আলোচনা সভায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া।
তিনি উল্লেখ করেছেন, “বিশ্রাম নেওয়ার সময় এখনো আসেনি। দলের জন্য নেতাকর্মীদের আরও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। শুধু মিছিলের সামনে হাঁটলে কিংবা আমাকে সালাম দিলেই নেতা হওয়া যাবে না। দলের প্রতি আনুগত্য থাকতে হবে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে আন্তরিকতার সঙ্গে অংশ নিতে হবে।”
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার পাকেরহাটে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি পাকেরহাটের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলোচনা সভাস্থলে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, দলের প্রিয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য যে কাজ করতে চান, তা বাস্তবায়নে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তাই দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। যারা আগামী দিনে নেতৃত্ব দিতে চান, তাদের কঠিন সময়েও দলের সঙ্গে থাকতে হবে এবং ত্যাগের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, খানসামা-চিরিরবন্দরের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের কারণেই তিনি সংসদ সদস্য থেকে জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব পেয়েছেন। এই সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব শুধু তাঁর একার নয়, দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর। জনগণের দেওয়া সম্মান ও আস্থা ধরে রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি মাদক ও অনলাইন জুয়া থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাদের জনগণের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, চাঁদাবাজি কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রভাব খাটানো যাবে না।
তিনি বলেন, “কোনো পক্ষ থেকে টাকা তোলার দায়িত্ব কেউ নেবেন না। জমিজমা বা অন্য কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের কথা শুনবেন। কোনো পক্ষের হয়ে অন্যায়ভাবে অবস্থান নেবেন না। মানুষের ভালো কাজ করতে হবে এবং দলের সুনাম রক্ষা করতে হবে।”
এ সময় এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের প্রতি আন্তরিকতা ও প্রতিশ্রুতি থাকলে উন্নয়ন সম্ভব। খানসামা-চিরিরবন্দর এলাকার অসমাপ্ত উন্নয়নকাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, গত ১৬-১৭ বছর যারা দলের সঙ্গে থেকে নির্যাতন ও কষ্ট সহ্য করেছেন, তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সকল বাধা-বিপত্তি ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও খানসামা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আলম তুহিন এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আহমেদ সেলিম বুলবুল।
সভায় সভাপতিত্ব করেন খানসামা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোসলেম উদ্দিন সরকার। সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাফিকুল আলম। এ সময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন