প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে একত্রিত তিন দিনের আর্ট ক্যাম্প। বুধবার সকাল ১১টায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় ‘ক্যানভাস ২৪: মুক্তির মহাকাব্য’ শিরোনামে এই আর্ট ক্যাম্পটি শুরু হয়।
আর্ট ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এই ক্যাম্পে ৫৫ জন প্রবীণ ও তরুণ চিত্রশিল্পী অংশগ্রহণ করেছেন। এটি চলবে আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকালে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।
এই তিন দিনের আয়োজনে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা তাদের ক্যানভাসে তুলে ধরবেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ, গণমানুষের প্রতিরোধ, স্বপ্ন এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষার বিভিন্ন দিক।
আয়োজকরা বিশ্বাস করেন, এই শিল্পকর্মগুলো কেবল একটি সময়কে স্মরণ করাবে না বরং সমকালীন বাংলাদেশের শিল্পচর্চায় ইতিহাস, স্মৃতি ও নাগরিক চেতনাকে নতুনভাবে চিন্তা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবেও বিবেচিত হবে।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া অনিয়ম ও অবিচারের পুনরাবৃত্তি যেন ভবিষ্যতে না ঘটে, সেই বিষয়ে সমাজকে সতর্ক থাকতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের মাধ্যমে ধারণ করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি ১৫ জুলাইয়ের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এই দিন থেকেই আন্দোলনের মূল গতিশীলতা গড়ে উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের, বিশেষত ছাত্রীদের অংশগ্রহণ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা প্রদান করে এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে তা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তনের পথে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, সেই সময়ের ঘটনা ও সংগ্রামের চেতনা সমাজে জীবন্ত রাখার গুরুত্বে শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তাই শুধুমাত্র ছবি আঁকাই নয়, বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের মাধ্যমে জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা, ইতিহাস ও স্পিরিটকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শিল্পকলা একাডেমির এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কেবল প্রদর্শনী আয়োজন নয়; বরং শিল্পের ভাষায় এমন একটি বার্তা প্রদান করা, যা সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারে। একই সাথে তরুণ শিল্পীরা যেন দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের কাজ সম্পর্কে কাছ থেকে অভিজ্ঞতা লাভের ও শেখার সুযোগ পান, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে শিল্পের মাধ্যমে ধারণ ও সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ৫৫ জন শিল্পী এই আর্টক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেছেন। এখানে সৃষ্ট শিল্পকর্মগুলো পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে, যাতে জুলাইয়ের স্মৃতি শিল্পের ভাষায় আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছাতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং শিল্পী ও অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন