প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট, যা মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়, এই ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের নিয়ে শুরু হওয়া মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়া মানে চূড়ান্তভাবে মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল আসার পরেই তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি নিজেদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। প্রায় পাঁচ হাজার পাইলটকে এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের এই পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। নতুন কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক পাইলটের নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এই ব্যাপক পরীক্ষার সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই২৩৭৯-এর গুরুতর ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছে। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ করে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়, যার ফলে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরবর্তী সময়ে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।
ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয় এবং ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার তালিকা থেকে নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে এমন তথ্য একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
তবে এ নিয়মে, কোনো ব্যক্তির শরীরে গাঁজার উপাদান পাওয়া এবং সময়কালীন ফ্লাইট পরিচালনার সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন, এই দুটি বিষয় আলাদা। তদন্তকারীরা এখন মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি পাইলটদের আচরণ, ফ্লাইটের তথ্য, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ঘটনার সময় ককপিটের কার্যকলাপও খতিয়ে দেখছেন।
ঘটনাটির পেছনে কারিগরি ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থার চাপ সাময়িকভাবে কমে যাওয়ার ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে কাজ করেনি। হাইড্রোলিক চাপ আবার ফিরে আসলে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হয়।
এই তথ্যের কারণে ঘটনাটিকে শুধুমাত্র পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কেন একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো এই ঘটনাকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে এবং এয়ারবাস ও ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরা কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করেই করা হচ্ছে। নতুন পরীক্ষায় যাদের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ আসছে, তাদের নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।
ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনার পর তদন্তের দুটি দিক বিশেষ প্রাধান্য পাচ্ছে। একদিকে পাইলটের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল ও ক্রুদের ফিটনেস, অন্যদিকে একই সময়ে উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় বিরল কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই ৩০০ ফুট আকস্মিক পতনের পেছনে ঠিক কোন কারণগুলো ভূমিকা রেখেছিল, সেই বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন