প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নীলফামারী সোনালী ব্যাংক পিএলসির সাবেক অঞ্চল প্রধান ও তৎকালীন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ওয়াহেদুন্নবীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদাচরণ এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে এসব অভিযোগের তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নীলফামারী প্রিন্সিপাল অফিসে প্রায় দুই বছর ছয় মাস দায়িত্ব পালনকালে তিনি ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণসহ বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগপত্রে দেখা যায়, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে তার বিরুদ্ধে ২ লাখ ৪৬ হাজার ২০০ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের পক্ষ থেকেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। নীলফামারী প্রিন্সিপাল অফিসের বিভিন্ন শাখার আসবাবপত্র কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ না করেও ভুয়া বা অসম্পূর্ণ ডেলিভারি চালান ও অন্যান্য কাগজপত্রের মাধ্যমে বিল পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এ-প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগসাজশের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়া, সোনালী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অনিয়মের বিভিন্ন তথ্য উঠে আসার কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকের ক্রয় কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি এবং বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। এতে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রশাসনিক নিয়ম-কানুনও লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মো. ওয়াহেদুন্নবীর বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের বদলির ক্ষেত্রেও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নীলফামারী প্রিন্সিপাল অফিসে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপকসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন সময়ে বদলি করা হয়। এর মধ্যে একই কর্মকর্তাকে একাধিকবার দূরবর্তী স্থানে বদলি করার ঘটনাও ঘটেছে। এসব বদলির ক্ষেত্রে নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি এবং কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও হয়রানির উদ্দেশ্যে বদলিকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। অভিযোগপত্রে মো. ওয়াহেদুন্নবীর বিরুদ্ধে অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।
এই অভিযোগগুলো সোনালী ব্যাংক পিএলসির ‘হুইসেল ব্লোয়ার পলিসি-২০২১’, ব্যাংকের কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা এবং প্রযোজ্য অন্যান্য আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে আসা তথ্য যাচাই করে অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদাচরণ ও অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে মো. ওয়াহেদুন্নবী জেনারেল ম্যানেজার্স অফিস, রংপুরের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন