প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সাভারে অটোরিকশা চুরির সন্দেহে গণপিটুনির ফলে আবুল খায়ের পাটোয়ারী (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসাবে পুলিশ অটোরিকশাচালক সবুজ ওরফে শুভ এবং একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিক নুরুজ্জামানকে আটক করেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে সাভার পৌরসভার উলাইল এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজের ভেতরে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় আবুল খায়েরকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আবুল খায়ের পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর দাসাদী গ্রামের লোকমান পাটোয়ারীর ছেলে ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে অটোরিকশাচালক সবুজ তার ছোট ছেলেকে রিকশা পাহারায় রেখে বাসায় খাবার খেতে যান। এ সময় আবুল খায়ের শিশুটিকে বলেন, "দুই দিন ধরে ভাত খাইনি। ভাত নিয়ে আসো।" শিশুটির বাবাকে বিষয়টি জানালে তিনি এসে আবুল খায়েরকে অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরে বসে থাকতে দেখেন। এরপর আবুল খায়েরকে অটোরিকশা চোর সন্দেহে মারধর করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপর তাকে একটি অটোরিকশা গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে আরও মারধর করা হয়, এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ব্যক্তির সঙ্গে থাকা অন্যরা হাসপাতাল থেকে চলে যান।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামরুন্নাহার জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরে আহত ব্যক্তিকে অটোরিকশাযোগে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
নিহতের প্রতিবেশী আব্দুল মোতালেব হোসেন দাবি করেন, আবুল খায়ের মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। রোববার ভোরে তিনি চাঁদপুরের বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সাভার থানা থেকে ফোনে তার মৃত্যুসংবাদটি জানতে পারেন।
আটক গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান বলেছেন, তার গ্যারেজে আনার আগেই স্থানীয় লোকজন ওই যুবককে মারধর করে ছিল। পরে গ্যারেজের কয়েকজন অটোরিকশাচালকও তাকে মারধর করেন। তিনি নিজে মারধর করেননি বলে অভিযোগ করেছেন। তার কল্যাণে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভয় পেয়ে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। যদি অন্য কেউ যুক্ত থাকে, তবে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন