প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যদি আগামীকাল ভারত এবং চীনের মধ্যে কোনো যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে একপক্ষ আকাশে শত শত অত্যাধুনিক স্টিলথ যুদ্ধবিমান ওড়ানোর ক্ষমতা রাখবে, যেখানে অন্যপক্ষের ঝুলিতে সম্ভবত একটি স্টিলথ যুদ্ধবিমানও থাকবে না। বেইজিং এবং নয়াদিল্লির নিম্নলিখিত সামরিক সক্ষমতার এই বিশাল ব্যবধান এখন এক মারাত্মক পরিচালনগত জরুরি অবস্থায় পরিণত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সাময়িকী 'দ্য ওয়ার জোন'-এ প্রকাশিত বিশিষ্ট সামরিক বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস রুপ্রেখটের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তার অনুমান অনুযায়ী, চীনের কাছে ইতিমধ্যে অনুমানজনকভাবে প্রায় ৫০০টি পরিচালনাগত ‘জে-২০ মাইটি ড্রাগন’ স্টিল्थ ফাইটার জেট থাকতে পারে, যা কি না তাদের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান। এই সংখ্যাটি অনেকের পূর্বের ধারণার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। চীন এই অত্যন্ত জটিল পঞ্চম প্রজন্মের বিমান তৈরির গতি বহুগুণ বেড়ে দিয়েছে। সম্ভবত তারা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য একটা মারাত্মক আশঙ্কার ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে। কারণ, বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে স্টিলথ যুদ্ধবিমানের সংখ্যা একেবারে শূন্য অবস্থায় আছে। পূর্বে খবর পাওয়া গেছে যে ভারতের সিকিম এবং তিব্বত সীমান্তের ওপরবর্তী অঞ্চলে চীনা জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়ে শত্রুর আকাশসীমায় অনায়াসে প্রবেশ করে প্রথম আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই বিমানগুলো অত্যন্ত পারদর্শী। আধুনিক যুদ্ধের কৌশলে স্টিলথ ফাইটারগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের আর্কিটেকচার মূলত নির্ধারণ করে। এগুলো প্রথমে শত্রুর আকাশসীমায় প্রবেশ করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে এবং এরপর সাধারণ যুদ্ধবিমানগুলোর অবাধে কাজ করার পথ তৈরি করে দেয়।
চীনের এই আকাশচুম্বী অগ্রগতির মোকাবিলায় ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান 'আমকা' তৈরির প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন থেকে অন্তত এক দশক দূরে রয়ে গেছে। জরুরি আমদানির প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার 'সু-৫৭' একমাত্র বিকল্প হিসেবে সামনে থাকলেও তা ভারতের জন্য পুরোপুরি আদর্শ বা সম্পদের সঠিক ব্যবহার নয়। অন্যদিকে ইউরোপের ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পে যোগ দেওয়ার যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে, তাও ভবিষ্যতের কাম্য। বাস্তবতা হলো, ভারতের 'আমকা' যখন বিমানবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হবে, ততদিনে চীনের ঝুলিতে হাজারখানেক উন্নত জে-২০ যুদ্ধবিমান থাকবে, এবং তাদের ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানও ডানা মেলতে শুরু করবে।
ভারতের বর্তমান এই শূন্যতার পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের বিলম্বিত সিদ্ধান্ত, অসংলগ্ন পরিকল্পনা এবং বড় পরিসরে উন্নত যুদ্ধবিমান তৈরিতে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারত পুরোপুরি প্রতিরক্ষাহীন। এই বিশাল ঘাটতি আড়াল করতে ভারত বর্তমানে স্টিলথ-বিরোধী বিশেষ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত সেন্সর এবং সনাক্তকরণ নেটওয়ার্কে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে, যা চীনা স্টিলথ বিমানের সুবিধাকে কিছুটা হলেও কমিয়ে দিতে হবে। তবে সংখ্যার লড়াইয়ে ভারত এখন একেবারেই প্রাথমিক স্তরে অবস্থান করছে। চীনের এই দ্রুত বিমান বিপ্লবের মুখে ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন প্রয়োজন দ্রুত সিদ্ধান্ত ও আউট-অফ-দ্য-বক্স চিন্তাভাবনা, যা এই চওড়া হতে থাকা ব্যবধানকে দ্রুত কমিয়ে আনতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন