প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার দলীয় ব্যবস্থা ও সংসদ সদস্য পদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, যদি জামায়াত তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে, তাহলে তার এমপি পদ থাকবে কি না।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। তবে গাজী নজরুল ইসলাম ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন। জামায়াতও জানায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এতদূর জানা গেছে, গাজী নজরুল ইসলাম বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য। এর পূর্বে, তিনি পঞ্চম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারায় (চ) উল্লেখিত পদচত্যির কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জামায়াত ঘোষিত নীতির বিরুদ্ধে কোনো কাজ করলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে। একই ধারার (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) বহিষ্কারের কারণে বলা রয়েছে, আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের পরামর্শক্রমে জামায়াতের যে কোনো সদস্যকে (রুকনকে) জামায়াত থেকে বহিষ্কার করতে পারেন।
যদি কোনো সদস্য (রুকন) জামায়াতের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও জামায়াতের নীতিসমূহের পরিপন্থি কোনো কাজ করেন অথবা এমন কার্যক্রম করেন যার ফলে জামায়াতের নৈতিক প্রভাব ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা জামায়াতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, তাহলে নির্বাহী পরিষদের পরামর্শক্রমে যে কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করা যাবে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জামায়াতের কেন্দ্রীয় সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়গুলো নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য পর্যবেক্ষণ করছে দলটি। ইতিমধ্যে সংসদ সদস্যের নিজস্ব বক্তব্য, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর বক্তব্য এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। এই বিষয়ে আরও খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলা হয়।
এদিকে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করে অথবা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেয়, তার আসন শূন্য হবে। কিন্তু কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর তার সদস্যপদ বাতিল হবে কি না, সে বিষয়ে সংবিধানে পরিষ্কার কিছু নেই।
আইনজীবীদের মতে, এই কারণে কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার দিলে, তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার সুযোগ থাকে। অতীতে, দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও কয়েকজন সংসদ সদস্যের পদ বহাল থাকার নজির আছে।
যাই হোক, যদি কেউ নিজে দল থেকে পদত্যাগ করেন, তাহলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিধান রয়েছে। এর আগে, দশম জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী দল থেকে পদত্যাগ করায় তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়েছিল। অতএব, গাজী নজরুল ইসলাম যদি জামায়াত থেকে নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ করেন তবে তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যাবে। কিন্তু যদি দল তাকে বহিষ্কার করে, তবে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি এ বিষয়ে বিতর্ক দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
এমন অবস্থায়, যদি গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত বহিষ্কার করে এবং দলটির পক্ষ থেকে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন নির্বাচন কমিশন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী হাবিবুর রহমান এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো দল থেকে মনোনীত হয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে না। কিন্তু, তিনি যদি নিজেই দল থেকে পদত্যাগ করেন, তবে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।
এদিকে, সোমবার (২০ জুলাই) রাতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু জামায়াত নেতা-কর্মী প্রথমে দাবি করেন যে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। যদিও পরবর্তীতে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানসহ অনেকেই ভিডিওটি আসল প্রমাণ করে। এরপর গাজী নজরুল ইসলাম ভিডিওতে থাকা নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং সিসিটিভি ফুটেজে গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে দেখা যায়। ভিডিওতে থাকা তরুণীকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতারা। মঙ্গলবার সকালে জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। গাজী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে, তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমে এই বিয়ে হয়েছে।
এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলাম একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি মঙ্গলবার দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেন, ১৩ জুলাই তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানী মগবাজারে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করছিলেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন