প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ৬৫ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), যার কাছে ১০০ গ্রাম হেরোইন এবং একটি মোবাইল ফোন ছিল। ডিএনসির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় গোল চত্বরের কাছে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, যশোর থেকে ঢাকাগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ বাসে একটি নারী হেরোইন নিয়ে আসছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি টিম ধোলাইপাড় গোল চত্বরে অবস্থান গ্রহণ করে।
সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে বাসটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করা হয়। এ সময় বাসের মাঝের আসনে বসা মাসুমা খাতুনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কাছে হেরোইন থাকার বিষয়টি জানা যায়।
ডিএনসির নারী সদস্যদের সহায়তায় তল্লাশি চালিয়ে তার পরিহিত পোশাকের ভেতর থেকে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো একটি পলিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। পলিব্যাগটি খুললে ১০০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুমা খাতুন জানান, তিনি যশোর থেকে হেরোইনের চালান ঢাকায় নিয়ে আসছিলেন। তিনি দাবি করেন, তার মেয়ে তাহমিনা তাকে বিভিন্নভাবে মাদক পরিবহনের জন্য চাপ দিতেন। তার মেয়ের নির্দেশেই তিনি এবারও হেরোইন নিয়ে ঢাকায় আসেন।
ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, মাসুমার দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাহমিনার যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার অবস্থান শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ডিএনসি বলছে, এই ঘটনার তদন্ত শুধুমাত্র মাসুমা খাতুনকে ঘিরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মাদকের উৎস, চালানটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, ঢাকায় কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে পরিবারের সদস্য বা অপেক্ষাকৃত বয়স্ক নারীকে ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। যদি তদন্তে কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে তাদেরও আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএনসির।
মাসুমা খাতুনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ক্রমিক নং ৮(গ) অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।
মামলার তদন্তে জব্দ করা মোবাইল ফোনের তথ্য, গ্রেপ্তার নারীর বক্তব্য এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে হেরোইনের উৎস, সরবরাহকারী, গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট মাদক কারবারিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে, জানান সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন