প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ শিগগিরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২ লাখ জনশক্তি নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের কারণে ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (জিরো কস্টে) যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য প্রদান করেন।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, মালয়েশিয়ায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রথম বহরটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে পাঠানো হবে। এর ফলে অভিবাসন ব্যয় পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনার একটি নতুন উদাহরণ সৃষ্টি হবে।
শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট ভাঙা এবং রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, ‘মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন ছিল। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সময়ের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তির এজেন্সির নাম বাদ দিয়ে নতুন সুযোগ তৈরির জন্য বর্তমান সরকার দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। সরকারের এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়া সরকারের অনুমোদিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির বাইরে আরও ৩১২টি ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ হিসেবে কর্মী প্রেরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বোয়েসেলসহ মোট ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সি এখন থেকে স্বচ্ছতার সাথে কর্মী পাঠাতে সক্ষম হবে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নতুন কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া এবং পূর্বে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিবন্ধিত কর্মীদের নিবন্ধনের কাজও চলমান রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে সরকারের অন্যান্য উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত তুলে ধরে উপদেষ্টা আরও জানান, আগামী ১০ অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ৪১ লাখ পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান শুরু হবে। বর্তমানে দেশে ১২ লাখ ৮৬১ হাজার মেট্রিক টন সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লাখ দরিদ্র পরিবারকে ১৫ টাকা মূল্যে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দেশের গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে এবং ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানায় সরবরাহ বাড়াতে রাজধানীর ডেসকো ও ডিপিডিসি’র বিদ্যুৎ ব্যবহারে কাটছাঁট করে সারাদেশে লোডশেডিং সুষমভাবে বন্টন করা হচ্ছে। আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও নতুন এফএসআরইউ চালুর মাধ্যমে দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, ই-রিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলে সুনির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন ও নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের খসড়া বিধিমালা শিগগিরই ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ এবং তথ্য অধিদপ্তরের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন