প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের দিকে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার মিছিলকে পুলিশ আটকে দিয়েছে। এই ঘটনার সময় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং আরও কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভারতের পার্লামেন্ট ভবন চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের উদ্দেশ্যে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়।
পুলিশের বাধার মুখে রাহুল গান্ধী ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়েন। তার হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অন্যান্য বিরোধী নেতারাও ব্যারিকেডের ওপর উঠতে দেখা যায়।
পরে বিরোধী সংসদ সদস্যরা সড়কে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের হাতে ছিল ‘সেভ ডেমোক্রেসি’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যানার।
মিছিল এগোতে না দেওয়ার পর পুলিশ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের আটক করে। তাদের একটি পুলিশ বাসে তোলা হয়। পরে তারা মুক্ত হয়ে নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরের পাশে আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ করেন।
বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘জ্ঞানেশ, এবার পদ ছাড়ুন।’
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধী জোট এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এবং ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে অনুপযুক্ত ও ভুয়া নাম বাদ দেওয়া এবং তালিকা হালনাগাদ করতেই এসআইআর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সোমবার নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকার, জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে নোটিশ দিয়েছে।
তবে আপাতত জ্ঞানেশ কুমারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়নি আদালত। আদালত জানিয়েছে, সংবাদ প্রতিবেদন বা অনুমানের ভিত্তিতে এমন আদেশ দেওয়া যায় না; আগে অভিযোগের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে, বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পার্লামেন্ট ভবন ও নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন