প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালীদের সহায়তায় কিশোর গ্যাং বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে মাদক, সন্ত্রাস, হত্যা, ছিনতাই এবং আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধে। কিশোর গ্যাং আতঙ্কে পরিণত হয়েছে জেলাবাসীদের কাছে, তবে তাদের মদদদাতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। সচেতন মহল অভিযোগ করছে, ফলে কিশোর অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাং নির্মূলে অভিযানসহ নানা কার্যক্রম চলছে।
দিনে দিনে অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং মহড়ার দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। পাড়া মহল্লায় অস্ত্র হাতে তরুণ কিশোররা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের হামলা ও সংঘর্ষে প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ মানুষ, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় উঠতি বয়সের কিশোররা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যেমন মাদক বিক্রি, চুরি এবং ছিনতাই। ধীরে ধীরে প্রভাবশালীদের শেল্টারে গড়ে উঠছে কিশোর গ্যাং। তাদের হাতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তুলে দেয়া হচ্ছে।
কিশোর গ্যাংয়ের মহড়া, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সাধারণ জনগণ এবং অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কিশোর অপরাধীদের দমনে তাদের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনাসহ পারিবারিক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে কিশোর গ্যাং শব্দটি নেই। আইন বিশেষে শিশু অপরাধ বা শিশু অপরাধী বলা হয়ে থাকে। শিশু অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আসলে যারা তাদের অপরাধী হিসেবে তৈরি করছেন, সেই মদতদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাহলেই শিশু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেছেন, সামাজিক এবং পারিবারিক সচেতনতা সৃষ্টি করাও জরুরি। অভিভাবকদের তাদের সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে এবং তাদের বাসায় ফিরতে দেরি হচ্ছে কিনা এসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত গ্রেফতার অভিযান এবং নানা কার্যক্রম চলছে। 'আমরা ইতিমধ্যে ৫টি কিশোর গ্যাং শনাক্ত করেছি। মামলা করছি। নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি এবং গ্রেফতারও করছি। কমিউনিটি পুলিশের সাথে কাজ করছি। জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে নিয়মিত সভার আয়োজন করছি।' তিনি জানিয়েছেন, কিশোরদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন।
জেলা পুলিশ সুপার আরও জানিয়েছেন, কিশোরদের যে অপরাধে জড়াচ্ছে, তাদেরকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তিনি জানান, মাদক অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে এবং আশা প্রকাশ করেছেন কিশোর অপরাধ প্রবণতাও কমে আসবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাসে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র্যাবের অভিযানেও অন্তত আরও ২০ জন গ্রেফতার হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন