প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতো আরও কিছু গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই বিষয়টি জানান।
এর আগে, হোয়াইট হাউসে নিষেধাজ্ঞা জারির পর সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকো নামক সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এই তিনটি গণমাধ্যমের দাবি, তাদের সংবাদ পরিবেশনের কারণে তাদের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘন করে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি দাখিল করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্পের অস্বীকৃত সংবাদ প্রকাশের কারণে গণমাধ্যমগুলোকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয় এবং শুধুমাত্র প্রশংসামূলক সংবাদ প্রকাশকারী গণমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যায় না। তারা সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণের ‘সাম্প্রতিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য’ পাওয়ার অধিকার রয়েছে বলেও দাবি করেছে।
সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকো একটি যৌথ বিবৃতিতে জানায়, কোনো ধরনের নোটিশ বা প্রক্রিয়া ছাড়া তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতিপত্র বাতিল করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ চ্যালেঞ্জ না করলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকার হুমকির মুখে পড়বে।
গণমাধ্যমগুলো জানায়, তারা তাদের প্রথম সংশোধনী অধিকার রক্ষা করতে এবং সরকার যাতে সংবাদমাধ্যম কী প্রকাশ করবে তা নির্ধারণ করতে না পারে, এই নীতির প্রতিষ্ঠার জন্য মামলা করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে, এই মামলার দ্রুত শুনানি হবে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।
তবে মামলার পর, সোমবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, তার সরকার ‘মুক্ত সংবাদমাধ্যমের’ ওপর আক্রমণ করছে না, বরং ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যমের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি এসব গণমাধ্যমকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলেও উল্লেখ করেন, তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
ট্রাম্প এর আগে শুক্রবার সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকো-কে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। শনিবার, এসব প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং তাদের প্রবেশপত্র বাতিল বা জব্দ করা হয়।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, অন্য কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার কারণে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। তিনি ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতো আরও গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন সমালোচনা করেছে। তারা সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
গত বছর এপি ও রয়টার্সের সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন কর্মসূচি কভার করা সাংবাদিকদের দলে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এপি এ বিষয়ে আলাদাভাবে মামলা করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন