প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চুয়াডাঙ্গার তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ সংকটের মূল কারণ হলো, অস্ত্রোপচারের জন্য অত্যাবশ্যক অ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্টের পদ বছরের পর বছর শূন্য রয়েছে। এর ফলে সাধারণ রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। সরকারি হাসপাতালগুলোতে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ না থাকায় অনেক রোগী বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে। আবার অর্থের অভাবে অনেকের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অপারেশন থিয়েটার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জামও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্পূর্ণরূপে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক রোগী বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার অনেকের পক্ষে চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। কিছু রোগী জেলার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
অপারেশন কার্যক্রম চালু রাখতে তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই অ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্টের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এ পদ শূন্য থাকায় অপারেশন বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন অপারেশন থিয়েটার ব্যবহার না করার কারণে মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে এবং কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি ও অর্থোপেডিক কনসালটেন্টের পদ শূন্য রয়েছে। দামুড়হুদায় অ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি ও অর্থোপেডিক কনসালটেন্ট নেই। অন্যদিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব পদের পাশাপাশি গাইনি কনসালটেন্টের পদও শূন্য রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক রোগী সার্জারি, গাইনি ও অর্থোপেডিক সমস্যায় এসব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এলেও অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাচ্ছেন না।
মনোহরপুর গ্রামের রোগী হাসিবুল ইসলাম বলেন, "আমাদের মতো গরিব মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসি। কারণ, এখানে কম খরচে ওষুধ ও অপারেশন করানো সম্ভব। আমাদের পক্ষে বাইরে ক্লিনিকে অপারেশন করানো ও চিকিৎসক দেখানো সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে রোগ শরীরে পুষে রাখতে হয়। অপারেশন করার জন্য অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক নেই। তাহলে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কীভাবে চলছে?"
হাটবোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়া জানান, "আমার স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে পেটে ব্যথা অনুভব করছিলেন। আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর পর জানতে পারি, তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে জানানো হয়, সেখানে এখন অপারেশন বন্ধ। এত টাকা খরচ করে কীভাবে স্ত্রীর অপারেশন করাব? আবার সংসারই বা কীভাবে চালাব?"
স্বাস্থ্য বিভাগ জানাচ্ছে, শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ দেয়া গেলে এ সংকটের সমাধান সম্ভব। চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, "স্বাস্থ্য বিভাগে জনবলসংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য রয়েছে। অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ছাড়া কোনো অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয়। এ কারণে বাধ্য হয়ে অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। শূন্য পদগুলোর বিপরীতে জনবল চেয়ে মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অ্যানেসথেসিয়ার পাশাপাশি সার্জারি, গাইনি ও অর্থোপেডিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ কনসালটেন্ট পদও শূন্য রয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই এ সংকটের সমাধান সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন