প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
হিমাগারের অতিরিক্ত ভাড়া কমানোর দাবিতে রংপুরে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে বিক্ষোভ করছে আলুচাষি এবং ব্যবসায়ীরা।
বুধবার সকাল ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত রংপুরে এ কর্মসূচিটি পালন করেন তাঁরা। পরে ব্যবসায়ী নেতাদের পক্ষ থেকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক উপ পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতি এবং রংপুরের বিভাগীয় আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা হিমাগার মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তারা সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন এবং দ্রুত ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান।
আলুচাষি আন্ছুল ইসলাম জানান, 'সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এক কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়চ্ছে প্রায় ১৬ টাকা। হিমাগারে সংরক্ষণ ব্যয়সহ সেই খরচ দাঁড়াচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ টাকা। অথচ বর্তমানে হিমাগারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকায়। আমরা চাষ করে লোকসান করছি, আর হিমাগার মালিকেরা বসে থেকেই কোটি কোটি টাকা আয় করছেন।'
হাজীরহাট এলাকার আলুচাষি শাকিল মাহমুদ জানিয়েছেন, 'রংপুর বিভাগের অন্যান্য জেলাগুলোসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কেজিপ্রতি হিমাগার ভাড়া ছয় টাকা হলেও রংপুরে নেওয়া হচ্ছে প্রায় সাত টাকা। আমরা চাই, সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা কেজি ভাড়া নির্ধারণ করা হোক। গত বছর আলুতে লোকসান হয়েছে, এবারও একই অবস্থায় আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক আলু চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।'
রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বনিক বলেন, বিভাগের অধিকাংশ জেলায় কৃষি বিপণন, জেলাপ্রশাসনের সদস্য এবং আলু চাষীদের সমন্বয়ে কেজিপ্রতি ৫ থেকে সাড়ে ৫ টাকা হিমাগার ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলেও শুধুমাত্র হিমাগার মালিকদের কারণে রংপুরে তা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, আজ আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিপণন অধিদপ্তরকে স্মারকলিপি প্রদান করা হলো। আগামী ১৬ তারিখের মধ্যে দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের আল্টিমেটাম দেন তিনি।
রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, 'বিগত দুই বছর আগে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। চলতি মৌসুমে তা বাড়িয়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা করা হয়েছে। একদিকে বাজারে আলুর দাম কম, অন্যদিকে সংরক্ষণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকারের প্রতি অনুরোধ, হিমাগারের ভাড়া কমানো হোক এবং আলু রপ্তানি উদ্যোগ নেওয়া হোক, যাতে লোকসান হওয়া আলুচাষিদের তালিকা করে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যায়।'
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরে আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের ইতোমধ্যে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। এর ওপর অতিরিক্ত হিমাগার ভাড়া তাঁদের সংকটকে আরও গভীর করেছে। তাঁরা হিমাগার মালিকদের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন