প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মোকাবিলায় জর্ডানের আল আজরাক বিমান ঘাঁটিতে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ ঘাঁটিতে উপস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সেখানে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখে তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর আরও কঠোর হামলার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনী যদি আবারও আগ্রাসী কার্যক্রম চালায়, তাহলে অঞ্চলটির অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিগুলোও আমাদের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হতে পারে।'
জর্ডন আগেই জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে নিক্ষেপিত আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত কিংবা ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বুধবার (৮ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা করে। মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র অবস্থান এবং সামরিক লজিস্টিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, মার্কিন বাহিনী গোলেস্তান প্রদেশের আককালা শহরের বাইরে অবস্থিত আক তেকেহ খান সেতুর কাছে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ফলে সেতুর আশেপাশের একটি রেলপথে অন্তত দুটি বিস্ফোরণ ঘটেছে, তবে হতাহত কিংবা অবকাঠামোগত ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মার্কিন বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার বিরুদ্ধে তাদের 'শাস্তিমূলক জবাবের' প্রথম ধাপ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলাটি আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর যৌথ অভিযান হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
এছাড়া আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানকে ব্যাহত করা এবং জনগণকে আতঙ্কিত করা। খামেনিকে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পবিত্র শহর মাশহাদে দাফন করা হবে এবং এর আগে সেখানে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের লক্ষ্যে হামলা চালায়, তাহলে তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান আরও বিস্তৃত হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত অন্যান্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করা হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'মার্কিন আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ইরানের জবাব কঠোর ও ব্যাপকভাবে প্রকাশ পাবে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন