প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও অনুশাসনের আলোকে সারাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বগুড়ার উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া জেলার উন্নয়ন কর্মসূচি স্থগিত ছিল।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করতে কাজ চলছে এবং সেখানে উত্তর অঞ্চলের জন্য বিমান বাহিনীর প্রথম বিমান ঘাঁটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে আসন্ন নতুন যুদ্ধ বিমানগুলোও বগুড়ার এয়ারপোর্টের সাথে যুক্ত হবে।
তিনি জানান, সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বগুড়ায় তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ড্রোন নির্মাণ কারখানা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
বগুড়াকে প্রতারণার উদাহরণের স্বরূপ তুলে ধরে বোঝান, ২০০৬ সালের পর আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম থাকা সত্ত্বেও সেখানে কোনও আন্তর্জাতিক মানের খেলা অনুষ্ঠিত হয়নি।
উপজেলা নামকরণের বিষয়ে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিছু ইউনিয়ন ছিল যেগুলো বড় বড় ইউনিয়ন ছিল। সেসব ইউনিয়নকে বিভক্ত করা অপরিহার্য ছিল। সেই কাজের অংশ হিসেবে নতুন চারটি ইউনিয়ন তৈরি করা হয়েছে। ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় নতুন নামকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেভাবে এলাকাবাসী ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন বগুড়া জেলা উন্নয়নবঞ্চিত ছিল, এ বিষয়ে সবার অবগতির কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বগুড়ার উন্নয়ন হয়নি, রাস্তাঘাট ও ব্রিজের অবস্থা খুবই খারাপ।” নিজের ভূমিকার বিষয়ে তিনি জানান, মন্ত্রী হিসেবে এসব ঘাটতির পূরণে চেষ্টা করছেন। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি নতুনভাবে এলাকাবাসীর জন্য একটি বহুমাত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত রেলপথ সংযোগ প্রায় ৭২ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের এ সংযোগ ছিল না, কিন্তু বর্তমানে রেলপথ সংযোগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, জমি অধিগ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘জাতীয় রাজনীতিতে আমার কোন পথ পাথেয় ছিল না; আমি তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি কিন্তু আমরা কাজ শুরু করেছি। আমাদের কাজ করার সক্ষমতা আছে, এটি নিশ্চিত করতে কিছুদিন সময় নিন। যদি শুরুতেই আমাকে টার্গেট করা হয়, তাহলে আমার মেধা বিকাশের সুযোগ হবে না।’
তিনি বলেন, “আমি আমার মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি কারণ আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আমাকে নিয়ে যেকোনো বড় সিদ্ধান্তগ্রহণ করেন।”
নতুন অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বাজেটে নির্বাচন পরিচালনার জন্য টাকা রয়েছে। আগামীতে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি পাঠকদের জানান, ‘আমাদের সন্তানরাও মামলার আসামি হয়েছিল’।
সম্পদ নিয়ে গণমাধ্যমে আসা খবরের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী হলফনামায় সব তথ্য দেওয়া আছে, যা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। কেননা, উচ্চারণ হওয়ার আগে যাচাই-বাছাই করা উচিত।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমার কথা খণ্ডিত ভাবে প্রচার করবেন না। বরং পুরো বক্তব্যটি তুলে ধরুন। আমার বিরুদ্ধে সমালোচনা হলেও আমি চিন্তিত নই। বরং, সমালোচনায় আমি দেশবাসীর কাছে পরিচিত হই। ভালো-মন্দ বিচার জনগণ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন