প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরবাসীর নিরাপদ পানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে নির্মিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি, যেটির ব্যয় ছিল প্রায় ৫ কোটি ৮ লাখ টাকা, চালুর এক বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। তিন বছর ধরে অচল থাকার কারণে পৌরবাসী এই প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্ল্যান্টটির নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা শ্যামলী পাড়ার উত্তরে স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে পৌরসভার জায়গায় নির্মিত হয়। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০২২ সালের ২৮ জুন প্ল্যান্টটি মাধবপুর পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সূত্রে জানা গেছে, প্ল্যান্টটির ঘণ্টায় ২ লাখ লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গভীর নলকূপ থেকে পানি উত্তোলন করে পরিশোধনের পর ৪৫০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার ওভারহেড ট্যাংকে সংরক্ষণ করার কথা ছিল। পরে পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌরবাসীর মধ্যে ওই পানি সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল।
হস্তান্তরের পর প্ল্যান্টটি চালু হয় এবং প্রায় এক বছর কার্যক্রম চলে। তবে ২০২৩ সালের পর থেকে এটি আর সচল হয়নি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় প্ল্যান্টের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, পানি উত্তোলনের জন্য স্থাপন করা তিনটি গভীর নলকূপও বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পানি সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইনও পুরোপুরি স্থাপন করা হয়নি। ফলে প্ল্যান্টটি পুনরায় চালু করতে হলে একাধিক অবকাঠামো মেরামত ও সংস্কারের প্রয়োজন হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা পবিত্র রায় বলেন, "প্ল্যান্টটি চালু হওয়ার পর কিছুদিন পৌরবাসী পানি পেয়েছেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে এটি বন্ধ। তিনটি গভীর নলকূপও নষ্ট হয়ে গেছে। প্ল্যান্টটি দ্রুত মেরামত করে নিয়মিত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।"
পৌর নাগরিক নয়ন মিয়া মন্তব্য করেন, "জনগণের অর্থে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দুঃখজনক। বছরের পর বছর পড়ে থাকলে যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে সরকারি অর্থের অপচয় আরও বাড়বে। দ্রুত এটি সচল করার পাশাপাশি কেন দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।"
মাধবপুরের সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান মানিক বলেন, "প্ল্যান্টটি বন্ধ থাকায় পৌরবাসী কষ্ট করছেন। তার দায়িত্বকালেও এটি চালু ও সচল রাখার বিষয়ে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দ্রুত প্রয়োজনীয় মেরামত করে প্ল্যান্টটি চালু করা প্রয়োজন।"
মাধবপুর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্ল্যান্টটি চালুর বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
মাধবপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, মাধবপুরে যোগদানের পর তিনি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ওভারহেড ট্যাংক পরিদর্শন করেছেন। প্ল্যান্টটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। কীভাবে দ্রুত এটি সচল করা যায়, তা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
মাধবপুরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী তুষার পাল বলেন, প্ল্যান্টটি মেরামতের জন্য তাঁদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সংস্কারের জন্য বড় বাজেট প্রয়োজন।
প্রায় ২৫ হাজার পৌরবাসীর জন্য নির্মিত এ প্ল্যান্টটি দ্রুত সংস্কার করে পুনরায় চালু এবং নিরাপদ পানি সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় মেরামত, নষ্ট গভীর নলকূপ সংস্কার এবং পানি সরবরাহের অবকাঠামো সম্পন্ন করে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন