প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকায় তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’ শুরু হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর নভোথিয়েটারে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘Innovate to Market’ বা ‘উদ্ভাবন থেকে বাজার’।
মেলায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ‘Shaping the Future with Jute Fiber: Development and Commercialization of Innovative Materials’ শীর্ষক একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করছে।
প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হচ্ছে পাট ও পাটজাত অবশিষ্টাংশকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে উচ্চমূল্যের এবং পরিবেশবান্ধব উপাদানে রূপান্তর করা। এর অংশ হিসেবে পাটকাঠিকে পাইরোলাইসিস প্রক্রিয়ায় বায়োচার ও অ্যাক্টিভেটেড কার্বনে রূপান্তরের প্রযুক্তি প্রদর্শিত হয়েছে। এই অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ব্যবহার করে ইলেকট্রোড উপাদান ও সুপারক্যাপাসিটর তৈরির সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও Jute Polymer Nanotechnology Research Group-এর প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার মন্তব্য করেন, পাটের মধ্যে থাকা মূল্যবান পলিমার আহরণ করে উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন উপাদান তৈরি করা সম্ভব। পাটে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ সেলুলোজ এবং ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ লিগনিন বিদ্যমান। এসব উপাদান ব্যবহার করে নতুন ধরনের মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে পাট থেকে ন্যানো সেলুলোজ তৈরি করেছি এবং তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পাটের লিগনিন আহরণ ও প্রক্রিয়াকরণের কাজও চলছে। পাটকাঠি থেকে উচ্চ শোষণক্ষমতাসম্পন্ন কার্বন তৈরি করেছি, যা শক্তি সংরক্ষণ ও গ্রিন এনার্জির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।’
অধ্যাপক বাশার উল্লেখ করেন, পাটের সেলুলোজ থেকে চিকিৎসা খাতেও বিভিন্ন ধরনের পলিমার তৈরি করা সম্ভব। পাটভিত্তিক এসব উপাদানের বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে নতুন শিল্প গড়ে তোলা এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
প্রকল্প টিমের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রভাষক মো. শাহাবুল হোসেন, সহকারী ব্যবস্থাপক মো. খাইরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুর রহমান। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী যে, কৃষিজ অবশিষ্ট পাটকাঠিকে শক্তি সংরক্ষণে ব্যবহারযোগ্য উপাদানে রূপান্তরের এই উদ্যোগ দেশের সবুজ ও টেকসই প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন