প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে প্রতিদিনের সকালের কফি একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই—এমন একটি বিষয়। তবে, কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, যদি একাধিক কাপ কফি, চা বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় নিয়মিত পান করা হয়, তাহলে পরিমাণের হিসাব রাখা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভধারণের চেষ্টা করার সময় প্রতিদিনের ক্যাফেইন গ্রহণ ২০০ মিলিগ্রামের মধ্যে রাখা উচিত। কারণ কেবল কফি বা চা থেকেই নয়, বিভিন্ন খাবার, পানীয় এবং কিছু খাদ্য-পরিপূরকের মাধ্যমেও শরীরে ক্যাফেইন প্রবাহিত হতে পারে।
ক্যাফেইন কি গর্ভধারণের ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে?
ক্যাফেইন এবং গর্ভধারণের ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার ফলাফল সব ক্ষেত্রে একরকম নয়। প্রজনন চিকিৎসাবিষয়ক আমেরিকান সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, পরিমিত ক্যাফেইন—যেমন দিনে প্রায় এক থেকে দুই কাপ কফির সমপরিমাণ—গর্ভধারণের ক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এমন শক্ত প্রমাণ নেই।
তবে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের সঙ্গে গর্ভধারণের ক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্পর্ক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। বিশেষ করে, দিনে প্রায় ৫০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তাহলে, এক কাপ কফি পান করলে গর্ভধারণে সমস্যা হবে—এমনটি বলা যায় না। মূল বিষয় হলো দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ না করা।
গর্ভধারণের আগে ক্যাফেইন কমানোর পরামর্শ কেন?
ক্যাফেইন একটি উদ্দীপক পদার্থ। কফি, চা, কোমল পানীয়, শক্তিবর্ধক পানীয়, চকোলেট এবং কিছু খাদ্য-পরিপূরকেও ক্যাফেইন থাকতে পারে।
গর্ভধারণের চেষ্টা করার সময় পরিমিত ক্যাফেইন সাধারণত বড় উদ্বেগের কারণ নয়। তবে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলার একটি কারণ হলো, গর্ভধারণের প্রথম দিকে অনেক নারী বুঝতেই পারেন না যে তারা গর্ভবতী হয়েছেন। তাই আগে থেকেই ক্যাফেইনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সুবিধাজনক।
গর্ভাবস্থায় সাধারণত প্রতিদিন ২০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের সঙ্গে গর্ভপাতসহ কিছু গর্ভাবস্থাজনিত ঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
কফির বদলে চা বা সবুজ চা কি ভালো?
কফির পরিবর্তে চা পান করলে অনেক ক্ষেত্রে ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ কমতে পারে। তবে, চা পুরোপুরি ক্যাফেইনমুক্ত নয়। কালো চা ও সবুজ চা—দুটিতেই ক্যাফেইন থাকে।
চায়ের ধরন, কতটা পাতা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কতক্ষণ পানিতে রাখা হচ্ছে, তার ওপর ক্যাফেইনের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। তাই, দিনে কয়েক কাপ কফি বা চা পান করার অভ্যাস থাকলে ধীরে ধীরে কিছু কাপ ক্যাফেইনমুক্ত পানীয় দিয়ে তা প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে।
প্যাকেটজাত পানীয় বা খাদ্য-পরিপূরক কেনার সময়ও সতর্ক থাকা দরকার। প্যাকেটের গায়ে থাকা তথ্য দেখে এতে ক্যাফেইন আছে কি না এবং থাকলে কতটা আছে, তা জেনে নেওয়া ভালো।
তাহলে, গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলেই কফি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে, প্রতিদিনের মোট ক্যাফেইনের পরিমাণ হিসাব করে তা পরিমিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন