প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অনেকের স্বপ্ন হয়ে থাকে। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ এবং নতুন সম্ভাবনাগুলির দিকে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে। কিন্তু এই আনন্দের পাশাপাশি, অনেকেই একাকিত্ব, ঘরছাড়া কষ্ট এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অজানা ভয় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক মানসিক অভিজ্ঞতা এবং সঠিকভাবে সামলাতে পারলে ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।
বিদেশে যাওয়ার পর পরিচিত মানুষ, পরিবার, ভাষা ও দৈনন্দিন পরিবেশ থেকে দূরে থাকার কারণে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি অনেকের মনে তৈরি হয়ে যায়। অসুস্থ হলে কী হবে, মন খারাপ হলে কার সঙ্গে কথা বলবেন, অথবা প্রয়োজনের সময়ে পাশে কে থাকবে—এমন নানা প্রশ্ন একাকিত্বের অনুভূতি আরও বাড়াতে পারে।
অনেক সময় হঠাৎ করে মায়ের রান্নার গন্ধ, সন্ধ্যার পরিচিত পরিবেশ বা নিজের বাড়ির নানা স্মৃতি মনে পড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এগুলো দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং নিজের শেকড়ের প্রতি স্বাভাবিক দৃঢ় টান। তবে যখন এই স্মৃতি বর্তমানের একাকিত্বের সঙ্গে তুলনা করা শুরু হয়, তখন মানসিক চাপও বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়া, এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার ফলে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসে। একই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও পরিবহন ব্যবস্থা, আবহাওয়া, বাজার এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকতে পারে। এসব নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনেকের জন্য শুরুতে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরের দৃষ্টিতে অনেককে আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও বাস্তবে বিদেশে থাকা অনেক শিক্ষার্থী একই ধরনের একাকিত্ব অনুভব করেন। কিন্তু বিষয়টি সকলের দ্বারা প্রকাশিত না হওয়ায় অনেকের মনে হয় যে, শুধু তিনিই এই সমস্যায় ভোগছেন। অথচ এই অভিজ্ঞতা বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই সাধারণ।
এমন পরিস্থিতিতে ভয়কে অস্বীকার না করে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিজের কাছে প্রশ্ন করা দরকার—আপনি আসলে কী বেশি অনুভব করছেন? পরিবারের অভাব, পরিচিত পরিবেশের অভাব, অথবা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা? কারণ সমস্যাটি বুঝতে পারলে সহজেই তার সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যায়।
মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে বিদেশে নিজের জন্য নতুন একটি দৈনন্দিন অভ্যাস তৈরি করার বরাত দেওয়া হয়েছে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা। নিয়মিত হাঁটা, নিজের পছন্দের খাবার রান্না করা, নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা এবং নিজের সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখাও মানসিক স্থিরতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে অতীতের স্মৃতিতে ডুবে না থেকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একা থাকা মানে একা হয়ে যাওয়া নয় বরং এই সময়টি নিজেকে নতুনভাবে জানার এবং মানসিকভাবে আরও শক্ত হওয়ার সুযোগ। ভয়, ঘরছাড়া কষ্ট বা মন খারাপ—এসব অনুভূতি বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথে অস্বাভাবিক নয়। ধীরে ধীরে এই অভিজ্ঞতাই মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
তাদের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিষয়টি শুধুমাত্র একটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়; এটি মানসিকভাবে পরিণত হওয়ার একটি দীর্ঘ যাত্রা। তাই শুরুতে একাকিত্ব বা ভয় অনুভব করলে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়ে ধীরে ধীরে নতুন পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন