প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুরে পদ্মা নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে নদী রক্ষা বেড়িবাঁধ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রায়টা-মহিষকুন্ডি বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয়দের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। উল্লেখ্য, এই ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে বেড়িবাঁধের দূরত্ব মাত্র ৫০ মিটার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ফয়জুল্লাহপুর এলাকার রায়টা-মহিষকুন্ডি বেড়িবাঁধের পাশে বিভিন্ন স্থানে এক কিলোমিটারে এই ভাঙন দেখা গেছে।
স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণের কারণে এই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাউবোর নদী রক্ষা বেড়িবাঁধের পাশে রাইটা-ফয়জুল্লাহপুরে পদ্মা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের এক কিলোমিটারের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আগে এখানে নদী ভাঙনে শতশত একর ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। বর্তমানে নদীর এই অংশে ভাঙন কবলিত স্থান থেকে নদী রক্ষা বাঁধের দূরত্ব মাত্র ৪০-৫০ মিটার। কিছু জায়গায় ভাঙনের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন। বসতবাড়িগুলোও হুমকিতে পড়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে অনেকে তাদের বসতভিটা হারিয়ে ফেলেছে এবং অনেকে নিজেদের উদ্যোগে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন যাতে তাদের শেষ সম্বলটুকু টিকে থাকে।
ভাঙনে ভিটে হারানোর শিকার আফতাবুল সরদার জানান, "পদ্মা নদীর ভাঙনে আমার বাড়ির পেছনের ভিটাটুকু নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ির সমস্ত মালামাল বের করে নিয়েছি। যেকোনো সময় বাকিটুকুও শেষ হয়ে যাবে।"
ভাঙন কবলিত কবিরাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফরিদা পারভীন ও ময়না খাতুন কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, "স্বামীর রেখে যাওয়া এই ভিটেটুকুই আমার শেষ সম্বল। বাড়ি ভাঙার চিন্তায় সারারাত ঘুমাতে পারি না। এটুকু না থাকলে ছেলে-সন্তান নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে না।"
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কবিরাজ জানান, নদী রক্ষা বাঁধের পাশে অবস্থিত প্রায় ৫০-৬০টি বাড়ি নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে আফতাবুল, টিক্কা, নাজিম, কালু মজনু, হান্নান ও খোকনের বাড়ির পিছনের আঙিনা নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
জুনিয়াদহ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান হাসান বলেন, "গত বছরের মতোই ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধের পাশে বেশ কিছু স্থান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী রক্ষা বাঁধ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে গোটা কুষ্টিয়া জেলা পানিবন্দি হয়ে যাবে।"
ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, "ফয়জুল্লাহপুরে নদী ভাঙনের সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে তাদের সাহায্য করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর তাগিদ জানাব।"
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, "আমরা নদী ভাঙনের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এই অঞ্চলটি পূর্বেও ভাঙনের শিকার হয়েছে। আমরা একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়ে রেখেছি। সেটি পাশ হলে আমরা দ্রুত কাজ শুরু করতে পারব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন