প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে হংকংয়ে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো-২০২৬’ আয়োজন করেছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
২৮ অক্টোবর হংকংয়ের আইল্যান্ড শাংরি-লা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের অংশ হিসেবে ১৩০ জনের বেশি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন, যারা আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পণ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পোশাক প্রস্তুতকারক এবং খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সহযোগিতায় এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।
আজ প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রোডশোতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা, নতুন বাজার ও পণ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া, পণ্যের বহুমুখীকরণ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এইচএসবিসির গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান অলিভার টি জোনসের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর।
অনুষ্ঠানে মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. রুবানা হক ‘হোয়াই বাংলাদেশ: লেগ্যাসি অ্যান্ড দ্য ফিউচার’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এই প্রবন্ধে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ধারাবাহিক পরিবর্তন, অর্জন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
রোডশোতে ‘কেন বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করবেন’ এবং ‘ক্রেতাদের দৃষ্টিকোণ থেকে’ শীর্ষক দুটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা সেশনে এইচএসবিসি, বিজিএমইএ, আন্তর্জাতিক পণ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, ক্রেতাদের প্রত্যাশা, পরিবেশগত মানদণ্ড, পণ্য সংগ্রহের নতুন প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়গুলো উঠে আসে।
এছাড়া, ‘দ্য বাংলাদেশ কালেক্টিভ’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পোশাকের বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি প্রদর্শিত হয়। পরে, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা হয়।
হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর মন্তব্য করেন, উৎপাদন সক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, টেকসই উৎপাদনে অগ্রগতি এবং কৌশলগত বাণিজ্য সুবিধার কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিজেদের মানিয়ে নেওয়া, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প এখন শুধু বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং উচ্চমূল্যের পণ্য, উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন ও দক্ষতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, পণ্যের বহুমুখীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশ্বিক পোশাকশিল্পে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা এখন আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সরাসরি দেখতে ও যাচাই করতে পারছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যাতে মূল্য সংযোজন, পণ্যের বৈচিত্র্য ও টেকসই উৎপাদনের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়।
এইচএসবিসি তার বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং পোশাকশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পোশাক প্রস্তুতকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, পণ্য সংগ্রহের উৎস বহুমুখী করা এবং বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করাই এই যৌথ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন