প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের আসামে বাঙালি মুসলমানদের ১ হাজার ১০০ টিরও বেশি বাড়িঘর এবং ১০টির অধিক মসজিদ ধ্বংস করার ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের আসাম ও উত্তরপ্রদেশসহ বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটাচ্ছে ভারত। তিনি বলেন, "মুসলমানদের বাড়িঘর ও মসজিদ ভেঙ্গে দিয়ে ভারত চরম মানবাধিকার লংঘন করছে।" গত এক দশকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংগঠিত রাষ্ট্রীয় অপরাধ পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ৩ সদস্যের একটি প্যানেল রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের যথেষ্ট সত্যতার প্রমাণ পেয়েছে। গত ৩১ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আসাম ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীরা জাতিগত নির্মূলে ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভারতকে মুসলিম শূন্য করে হিন্দু রাষ্ট্র পরিণত করার লক্ষ্যে ভারতে অবস্থিত মুসলিম ঐতিহ্যগুলো বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।
মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, "১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে সারা বিশ্বে নিন্দিত হয়েছে।" আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিবাদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ভারত সংখ্যালঘুদের উপর দমন চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের জন্য ভারত সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
সম্প্রতি দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছে দেড়শ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক মসজিদ উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে মোদী প্রশাসন। ১৯৭৭ সাল থেকে মসজিদটি সরকারি গ্যাজেটভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। নয়া দিল্লির মিউনিসিপাল কাউন্সিলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় থাকা ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদটি গত ১৯ অক্টোবর ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নোটিশ পেয়েছে। ৭ অক্টোবর থেকে মসজিদের বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করায় মুসল্লিদের নামাজ আদায়সহ দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ায় ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানরা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমীর হাবিবুল্লাহ মিয়াজী ভারতের মুসলিমদের অস্তিত্ব রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি বলেন, "অন্যথায় জুলুমের পরিণতিতে ভারত একদিন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।" তিনি আশাবাদী যে, সেদিন বেশি দূরে নয়, ভারতে আবার মজলুম মুসলমানদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন