প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর সোমবার প্রথমবার বরিশাল সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সফরকে কেন্দ্র করে বরিশালে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ আশায় বুক বেঁধেছে। তারা প্রত্যাশা করছেন, সব সময়ের অবহেলিত এই অঞ্চলের উন্নয়নে জরুরি ৪ দাবি এবার পূরণ হবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে বিএনপি নেতারাও এসব দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
বরিশাল বিভাগ ৬ জেলা এবং ৪২ উপজেলায় গঠিত এবং এখানকার সংসদীয় আসন সংখ্যা ২১টি। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছে। এই কারণে বরিশালের মানুষের আশা-বিশ্বাস বিএনপির প্রতি একটুবেশি। যদিও সদ্যঘোষিত জাতীয় বাজেট বরিশাল অঞ্চলের আশা-আকাঙ্ক্ষার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। দেশের প্রায় সব বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা প্রকল্প এবং বরাদ্দ উল্লেখ থাকলেও বরিশালের জন্য বাজেটে কোন উল্লেখ নেই। এর ফলে সংসদে বরিশাল অঞ্চলের সব সংসদ সদস্য ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এমনকি স্পিকারও এ নিয়ে নিজেদের হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বরিশালের প্রায় প্রতিটি জেলা-উপজেলায় দাবির আদায়ে বিক্ষোভ হয়েছে। এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেন সড়ক নির্মাণ, সমুদ্রসৈকত ভাঙন রোধ করে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা এবং বরিশালে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা। বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট এবায়েদুল হক চান উল্লেখ করেছেন, ‘পদ্মা সেতু চালুর পর একদিকে যেমন ঢাকা-কুয়াকাটা সড়কে যানবাহনের চলাচল আগের তুলনায় কয়েকশ গুণ বেড়েছে, তেমন বেড়েছে দুর্ঘটনা। সরু সড়কে যানজটের কারণে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এখানে শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না। সড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করা এখন খুবই জরুরি। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেবেন।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবং পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কুয়াকাটা এখন বিশ্বখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র। অথচ সাগরের ভাঙনে হুমকির মুখে এই সমুদ্রসৈকত। ভাঙন রোধ ও মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাখিল করা প্রকল্প এ পর্যন্ত চারবার ফেরত পাঠিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রশ্নেও পিছিয়ে আছে কুয়াকাটা। আমাদের দাবি, কুয়াকাটাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা হোক। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে সেই ঘোষণা আসবে বলে আশায় আছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।’
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান জানান, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য এখানে বাসিন্দাদের রাজধানীতে যেতে হয়। এখানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল হলে সেই দুর্ভোগ দূর হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি, এবারের সফরে তিনি এ ব্যাপারে ইতিবাচক ঘোষণা দেবেন।’ ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেছেন, ‘এখনো দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন গ্যাসসমৃদ্ধ জেলা ভোলা। সড়কপথে যোগাযোগ না থাকায় ভূগর্ভস্থ গ্যাসের খনি থাকা সত্ত্বেও এখানে শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠছে না। সন্ধ্যা নামলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এই জেলা থেকে মুমূর্ষু রোগীকেও রাজধানী বা বিভাগীয় সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোলা-বরিশাল সেতু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আশা করি, এবারের সফরে তিনি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেবেন।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, ‘ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ এবং দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সভা করবেন। যেসব দাবির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো তো এই অঞ্চলের প্রাণের দাবি। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা দেবেন, সেটাই সবার প্রত্যাশা।’
প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল আগমন উপলক্ষে শনিবার সকালে নগরীর সদর রোড থেকে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে যুবদল মহানগর বিএনপি আনন্দ মিছিল করেছে। এ সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও বিএনপি নেতাকর্মীরা দফায় দফায় সভা করছেন। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্মসূচির স্থলে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল এবং বৃক্ষরোপণ স্থানে পরিদর্শন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন ও সফল করতে শতভাগ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা একত্রে কাজ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন