প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি হলো শিক্ষক সংকট। দেশের বিভিন্ন কলেজে অনুমোদিত পদের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা কম রয়েছে। কিছু কিছু বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য থাকায় পাঠদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। একজন শিক্ষককে একাধিক কোর্স বা বিষয় পড়াতে বাধ্য হতে হচ্ছে, যা শিক্ষার গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষকরা প্রশাসনিক দায়িত্ব, বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজের চাপের কারণে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না, যা শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
শুধুমাত্র শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি করলেই সংকটের সমাধান হবে না; শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে শিক্ষাদানের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এখনও প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষার ধারা বিদ্যমান। শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ এবং আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতির সাথে পরিচিত হওয়ার ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে।
অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। অনেক সরকারি কলেজে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার উপকরণের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত গবেষণাগার ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত। বর্তমান যুগে শুধুমাত্র পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা যথেষ্ট নয়; বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু অনেক কলেজে সেই পরিবেশ এখনও পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।
গবেষণা সংস্কৃতির অভাবও উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা। বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে গবেষণাকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা হয়। গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হয়, সমাজের সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আমাদের অধিকাংশ সরকারি কলেজে গবেষণার সুযোগ ও গবেষণা তহবিল অত্যন্ত সীমিত। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণামুখী মনোভাব গড়ে ওঠার সুযোগ কম থাকে।
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ এবং আত্মনিয়ন্ত্রণও শিক্ষার মানের সাথে গভীরভাবে জড়িত। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল বিনোদনের কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং গবেষণামুখী মানসিকতা গড়ে তোলার জন্য বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।
সরকারি কলেজগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার অভাব। বর্তমান চাকরির বাজারে শুধুমাত্র একাডেমিক সনদ যথেষ্ট নয়; যোগাযোগ দক্ষতা, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি প্রয়োজন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে একটি ব্যবধান লক্ষ্য করা যায়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পরও চাকরির বাজারে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারে না।
সরকারি কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের গবেষণা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। তৃতীয়ত, আধুনিক গ্রন্থাগার, গবেষণাগার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। চতুর্থত, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে। পঞ্চমত, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে হবে।
লেখক: অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজ দাগনভূঞা, ফেনী
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন