প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দিনাজপুর, ২৪ আক্টোবর, ২০২৬ : জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ হাই স্কুল মাঠে গতকাল শুক্রবার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বউ মেলা আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার গোপালগঞ্জ হাই স্কুল মাঠে এই ঐতিহ্যবাহী মেলা সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলেছিল। যদিও মেলার নামকরণ আদিবাসী সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জন্য হলেও, দীর্ঘকাল ধরে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলেই বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় এতে অংশগ্রহণ করেন।
মেলার সফলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এর আগে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মঞ্জুরুল ইসলাম এমপি।
গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বীরগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ হাই স্কুল মাঠে আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির আহ্বায়ক জোসেফ হেমরমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী মিলন মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন।
তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এবং উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু।
মেলা উদ্বোধনের পূর্বে শুক্রবার সকাল থেকেই মেলার স্থানে দোকান-পাটসহ গ্রাম বাংলার বিভিন্ন প্রসাধনীর পসড়া বসিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
আদিবাসীদের বউ মেলা নামে পরিচিত হলেও, এটি অত্র এলাকার মানুষের মিলন মেলার আগমনী বার্তায় প্রতিবছর শারদীয় দুর্গাপূজার ২/১ দিন পর অনুষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষ দিনক্ষণ গণনা শুরু করে। সবাই অপেক্ষায় থাকেন কবে, কখন আসবে আনন্দঘন সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, ‘আদিবাসী বউ মেলা বা মিলন মেলা’।
মেলায় আদিবাসী তরুণ-তরুণী, আবালবৃদ্ধবনিতাদের সাথে একাকার হয়ে যায় এই অঞ্চলের সব ধর্ম-বর্ণ, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের উৎসবমুখর আনন্দঘন আগমনী বার্তা। আদিবাসী যুবতীরা বিভিন্ন রঙের শাড়ি পরে নেচে গেয়ে তাদের পূর্ব পুরুষদের আদিবাসী সংস্কৃতি তুলে ধরেন। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা আদিবাসীদের সংস্কৃতি দেখে মুগ্ধ হন।
এর মধ্যে আদিবাসী তরুণ-তরুণীরা তাদের জীবনসঙ্গী খুঁজতে একে অপরের সাথে আলাপ-আলোচনা, কথা-বার্তা ও বিভিন্ন ভঙ্গিমায় তাদের সংস্কৃতি বিনিময় করেন। মেলা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেলায় জীবনসঙ্গী খুঁজার ক্ষেত্রে প্রায় ৪/৫শ’ বিয়ের উপযুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আদিবাসী সম্প্রদায় যুবক-যুবতীরা তাদের পছন্দের পাত্র-পাত্রী খোঁজার মিলন মেলা উৎসবে পরিণত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই আগামী দু’এক মাসের মধ্যে বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন বলে মেলা আয়োজনকারীরা আশা প্রকাশ করেছেন।
আদিবাসী নেতা জোকস টুডু বাসস’কে জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আদিবাসী সম্প্রদায়ের মূলত সাঁওতাল, পাহাড়ী, উরাও মালোসহ অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মানুষ আদিযুগে ভিন্ন প্রকৃতির জীবনযাপন করতেন। সামাজিকভাবে তারা অনেকটা নিম্নপর্যায়ে চলাফেরা করতেন। তারা তেমন পড়াশোনা করতেন না বা জানতেন না। সহজ সরল জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত ছিলেন। যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে আদিবাসীরা এখন অনেকটাই সামাজিক সচেতনতায় শিক্ষিত এবং উচ্চশিক্ষিত হয়ে সভ্য যুগের অত্যাধুনিক পরিবেশে বসবাস শুরু করেছেন।
আদিবাসী নেতা ও স্কুল শিক্ষক হাবিব লাকড়া বাসস’কে জানান, সম্প্রতি তাদের কিছু সংখ্যক তরুণ-তরুণী পুর্বপুরুষদের আমলের তথা আদি যুগে প্রতিষ্ঠিত আদিবাসী মিলন মেলার প্রথাকে পরিবর্তন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম রিতা হেমরম ও আলবেরিকুজ হাজদাসহ অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথা ফেসবুকে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
মেলা সফল করার লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলামের উপস্থিতিতে গত কয়েকদিন পূর্বে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন সংসদ সদস্য মো. মঞ্জুরুল ইসলাম।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবার ৪ শতাধিক বিবাহযোগ্য যুগল প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। পারিবারিকভাবে আলোচনা করে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হবে।
দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা বাসস’কে জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক জনগণের অংশগ্রহণে উত্তরাঞ্চলের মধ্যে এই জীবনসঙ্গী খোঁজার মেলা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন