প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছেন দুই শিক্ষার্থী এবং তাদের এক শিক্ষক। এই বিষয়ে ধর্ষণ ও সাইবার আইনে মামলা দায়ের করেছেন ওই শিশুর নানি।
মামলাটি সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে শ্যামনগর থানায় দাখিল করা হয়।
মামলার আসামির তালিকায় রয়েছে শ্যামনগর পৌরসভার গুমানতলী গ্রামের হযরত আলী (১৭), আবু হাসান (১৫) এবং গুমানতলী কামিল মাদরাসার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নুর আলম (৩৬)।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, হযরত ও আবু হাসান দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে ধর্ষণ করে আসছিলেন। তারা গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে নির্যাতন করছিলেন। পরে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে শিক্ষক নুর আলমও শিশুটিকে ধর্ষণ করেন।
শিশুটির বাবার বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার সুরিপাড়া গ্রামে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সে নানির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিল। তার মা বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
মামলার এজাহার এবং পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তার এক আত্মীয়। এরপর গত ১০ অক্টোবর শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকের পরীক্ষায় শিশুটি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়।
বাদীর অভিযোগে বলা হয়েছে, হযরত ও আবু হাসান শিশুটির ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাড়িতে আসতেন। একসময় গোসলের পর পোশাক পরিবর্তনের সময় শিশুটির গোপনে ভিডিও ধারণ করেন তারা। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়।
শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, তিন-চার সপ্তাহ আগে প্রাইভেট পড়তে গেলে শিক্ষক নুর আলম তাকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করেন।
এদিকে, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শিক্ষক নুর আলমের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
গুমানতলী কামিল মাদরাসার সুপার মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) শোকজ করা হয়েছে। তাকে আগামী তিন দিনের মধ্যে এই শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম বলেন, শিশুটির নানি তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন