প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার কারণে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বর্তমান বিক্ষোভ একটি নতুন আলোচনা শুরু করেছে। দিল্লীর রাজপথে হাজারো শিক্ষার্থীর স্লোগানে ভরে উঠেছে। বিক্ষোভ চলছে টানা। আন্দোলন স্থলটিতে হঠাৎ একটি ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে খাবারের প্যাকেট, সমুচা, চা, ঠান্ডা পানীয় পৌঁছে যাচ্ছে। কিন্তু খাবার নিতে সেখানে ক্রেতাদের দেখা মিলছে না। বরং ডেলিভারি কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করতে। তাহলে, কারা এই খাবার পাঠাচ্ছেন এবং কেন বিদেশ থেকেও খাবারের অর্ডার আসছে?
আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানাতে দেশ-বিদেশের মানুষরা অভিনব পথে চলছেন। তারা অনলাইনে খাবার অর্ডার করে তা সরাসরি আন্দোলনস্থলে পাঠাচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, অনলাইনে খাবার সরবরাহকারী অ্যাপগুলোর মাধ্যমে যেমন সুইগি এবং জোম্যাটো, আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার ও পানীয়ের নিয়মিত প্রদানের ব্যবস্থা হচ্ছে। এরপর ডেলিভারি কর্মীদের বলা হচ্ছে, যাদের খাবারের প্রয়োজন, তাদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করতে।
সুইগির ডেলিভারি কর্মী প্রদীপ কুমার সিং ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, এখন যন্তর মন্তর তার নিয়মিত ডেলিভারি গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, অর্ডার দেওয়ার পর গ্রাহকরা ফোনে জানাচ্ছেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে খাবারগুলো বিলিয়ে দিতে। সেখানে আলাদাভাবে কেউ খাবার নিতে আসেন না। তিনি আরো জানান, একদিন তার কাছে সমুচার একটি বড় অর্ডার এসেছিল। তাকে স্রেফ বলা হয়েছিল, যাদের প্রয়োজন, তাদের কাছে সেটি পৌঁছে দিতে।
শুধু ভারতেই নয়, বিদেশ থেকেও আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার আসছে। অন্য এক ডেলিভারি কর্মী মহেন্দ্র কুমার জানান, তিনি একজন বিদেশি গ্রাহকের পাঠানো চায়ের অর্ডার নিয়ে এসেছিলেন যন্তর মন্তরে। তবে, কে সেই অর্ডার দিয়েছেন, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই। তাকে শুধু বলা হয়েছিল, আন্দোলনরত ভাইদের হাতে চা পৌঁছে দিতে।
অন্যদিকে, জোম্যাটো ও জেপ্টোর এক ডেলিভারি কর্মী এই উদ্যোগকে ‘স্টুডেন্ট সার্ভিস’ বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষ্য, প্রেরকের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে। তাকে শুধু নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সব খাবার আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিতরণ করে দিতে।
এদিকে, আন্দোলনের কারণে দিল্লি পুলিশ এখন পর্যন্ত ১০টি এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় চারটি, কনট প্লেস থানায় তিনটি এবং মন্দির মার্গ, বারাখাম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে, আন্দোলনস্থলে পৌঁছানো এসব খাবার ও পানীয় যেন আরেকটি বার্তা দিচ্ছে। কেউ পরিচয় প্রকাশ না করেই নিজেদের সমর্থনের কথা জানিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন