প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শহরের প্রবেশদ্বার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী একটি চত্বর অবশেষে অপসারণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে পৌরসভা এই চত্বরটি সরিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে শহরে প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথে সৃষ্ট যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমবে, এমনটা জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের সংযোগস্থলে সড়কের মাঝখানে এই চত্বরটি অবস্থিত ছিল। যদিও এর নাম 'বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর', কিন্তু বাস্তবে সেখানে বীরশ্রেষ্ঠের কোনো মূর্তি বা অবয়ব ছিল না। বরং সেখানে ছিল একটি বড় পাথর। এই পাথর থাকার কারণে সড়কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের গাড়ি দেখতে চালকদের সমস্যা হতো। কোনও শৈল্পিক অবয়ব ছাড়াই প্রকল্পের টাকা লুটপাটের উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার বাসচালক আবির মাহমুদ মন্তব্য করেন, “এই পাথরের জন্য মোড়ে গাড়ি ঘোরাতে অনেক সমস্যা হতো। অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে, মানুষ আহত হয়েছে। এটি সরিয়ে দিলে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।”
শুধু যানজট নয়, চত্বরটি ঘিরে গড়ে উঠেছিল নানা অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া। টার্মিনালের সময় নিয়ন্ত্রক আবু জাফর অভিযোগ করেছেন যে, চত্বরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল, যার কারণে সেখানে প্রকাশ্যে প্রস্রাব-পায়খানা করা হতো। ফলে সেখানে ঘিঞ্জি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। সন্ধ্যার পর পাথরের আড়ালে বসে মাদকাসক্তরা গাঁজা সেবন করতো। এই পরিস্থিতি পথচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছিল।
ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান জানান, ২০১৪ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ এবং তৎকালীন পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। উক্ত প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৩২ lakh টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ে ১১ লাখ টাকা উত্তোলন করে কাজ শুরু হলেও পরে কি ঘটেছে তা আমার জানা নেই। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভাস্কর্য নির্মাণের সেই ফাইলটি পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ খুঁজে পাচ্ছে না।
ঝিনাইদহের সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানিয়েছেন, “জনদুর্ভোগ লাঘব ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধে চত্বরটি অপসারণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল বলেই সে সময় আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” বর্তমান সময়ে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক আব্দুল মজিদ জানান, সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের কোনও ভাস্কর্য তৈরি হচ্ছে বা ভাস্কর্য ছিল বলে তিনি শুনেননি। তাই এ বিষয়ে তার কোনও বক্তব্য নেই। সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামালুজ্জামান বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি এমন তথ্য দেখেছেন, তবে সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের কোনও ভাস্কর্য ছিল না বা তৈরি হয়নি। যদি ভাস্কর্য তৈরি হতো, তবে তারা জানতেন। তিনি বলেন, এতে করে ফ্যাসিস্টরা নানা ভাবে সমালোচনা ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে ইস্যু তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন