প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ডলারের দাম আবারও বাড়ছে। এই বাড়তি দামের প্রভাব পড়তে পারে আমদানি ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামগুলোর ওপর। বর্তমানে আমদানি খাতে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সায়। খোলাবাজার ও ব্যাংকের নগদ লেনদেনে ডলারের দাম ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে অবস্থান করছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এর ফলে এটি আমদানি ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং মূল্যস্ফীতি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
জুলাই মাসের শুরু থেকেই ডলারের দাম একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, মাসের শুরুতে প্রতি ডলারের দাম প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৫ পয়সা করে বেড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ সপ্তাহে এক লাফে দাম বেড়ে গেছে ৫০ পয়সা। এই প্রেক্ষিতে, ব্যাংকগুলোর বিক্রয়মূল্যও বেড়েছে।
গত এক সপ্তাহে আমদানি খাতে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকা ৯০ পয়সাতে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, খোলাবাজার ও ব্যাংকের নগদ লেনদেনে ডলারের দাম ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে বর্তমানে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানাচ্ছে, রফতানি আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লেও আমদানি কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে দামও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই প্রসঙ্গে বলেন, 'বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিময় হার নির্ধারণে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে না।' ডলারের দাম বাজারে চাহিদা এবং জোগানের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়।
তবে যদি কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ ওঠে, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলারের দাম বৃদ্ধির পেছনে শুধু আইএমএফের পরামর্শ নয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বড় ভূমিকা রাখছে। এই পরিস্থিতি উচ্চমূল্যে ডলার কিনে আমদানি করতে বাধ্য করছে, যার ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে এবং ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়বে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির উল্লেখ করেছেন, 'বাংলাদেশ খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে যন্ত্রপাতি; সবই আমদানি করে।' তাই ডলারের দাম বৃদ্ধি পেলে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। ১৫, ২০ বা ৩০ পয়সার বৃদ্ধি হয়তো বড় সমস্যা নয়। কিন্তু হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেনে এই সামান্য বৃদ্ধি বড় প্রভাব ফেলে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক।
এখন বিশেষ নজর রয়েছে ডলারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হতে পারে এবং এর প্রভাব বাজার ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা পড়ে, সেটির দিকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন