প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার একটি নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় বর্তমানে পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকালীন ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব বিষয় জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই রাত আনুমানিক ২টা সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে গজারিয়া থানার পুলিশ জানতে পারে, উপজেলার বালুবাকান্দি এলাকায় অবস্থিত ‘দি জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামক একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে সশস্ত্র ডাকাতদল প্রবেশ করেছে। পরে ডাকাতরা সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং হাত-পা বেঁধে চোখ বেঁধে একটি কন্টেইনার কক্ষে আটকে রাখে। এরপর সাইটে যে বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী ছিল, সেটি ট্রাকে তুলে নিয়ে যায় তারা। লুণ্ঠিত মালামালের মোট মূল্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করার পর সন্দেহভাজন দুটি ট্রাক শনাক্ত করা হয়। এর পর ট্রাকের মালিক এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযানে আরও আসামিদের আটক করা হয়। উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ১৪ জুলাই গজারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, অন্তত দুটি গ্রুপের সমন্বয়ে এ ডাকাতি সংঘটিত হয়। শাওন, সজল ও রিয়াজুলসহ কয়েকজন এই পরিকল্পনায় জড়িত ছিল। তারা ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে এই অপরাধ সংগঠিত করে এবং স্থানীয় শ্রমিকদের সহযোগিতা নিয়েছিল। ঘটনার দিন রাতেই ঢাকার তেজগাঁও এলাকা থেকে একটি দল গজারিয়ায় আসে এবং অবস্থান নেয়। পরে একটি অগ্রবর্তী দল নির্মাণসাইটে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে এবং বাইরে থাকা সহযোগীদের সহায়তায় ট্রাকে করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার সঙ্গে এখন পর্যন্ত ২৩-২৪ জনের সম্পৃক্ততা জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মাইন উদ্দিন, ছোটন, রিয়াজুল ইসলাম, আবুল খায়ের, শাহ আলম, রনি শিকদার, মেহেদী হাসান, মনোরঞ্জন দাস, আল আমিন সানা, অলোকেশ মন্ডল, সারাফত উদ্দিন সুমন, অলিউর রহমান, জামাল, মৃদুল আহম্মেদ তুষার, সজল হোসেন, আরিফ, মিরাজ, আলী ও রফিক।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ৪টি ব্যাটারি, ১০টি ফ্যান, মোটর, ডায়নামো, ওয়েল্ডিং মেশিন, হাইড্রোলিক যন্ত্রপাতি, ডিজেল ইঞ্জিনসহ প্রায় সাড়ে ৫ টন লোহার বিভিন্ন সামগ্রী।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন