প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের একজন প্রভাবশালী কট্টরপন্থি নেতার সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিয়েছেন। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে পুনরায় বোমা হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, জেডি ভ্যান্স ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’-এর সচিব মোহসেন রেজায়ির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। উল্লেখ্য, মোহসেন রেজায়ি পূর্বে ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’-এর দীর্ঘকালীন দায়িত্ব পালনকারী কমান্ডার ছিলেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তাব দিয়েছেন জেডি ভ্যান্স। তবে, প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তির ঘোষণা এখনও করা হয়নি।
ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার রেজায়িকে তেহরানে যোগাযোগের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের মতে, তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের চুক্তির পক্ষে ঐকমত্য গড়ে তুলতে সক্ষম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে কাতার দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। কাতারি প্রতিনিধিরা নিয়মিতভাবে রেজায়ি এবং ইরানের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আলোচনা আরও এগোলে তুরস্কের ইস্তাম্বুল বা কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে বৈঠকের আয়োজন নিয়ে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, তেহরান সম্মত হলে আগামী সপ্তাহেই কাতার বা তুরস্কে আলোচনা শুরু হতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনের শর্ত হলো তেহরানের পক্ষ থেকে এমন প্রতিনিধিদের পাঠাতে হবে, যারা পারমাণবিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে সক্ষম।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, মোহসেন রেজায়ির কাছে পাঠানো মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের চিঠি ইরান পেয়েছে। তবে, এখনও চিঠির কোনো জবাব দেয়া হয়নি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার অগ্রগতি নির্ভর করছে তেহরানের সাতটি শর্ত পূরণের ওপর।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস মনে করে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ সংকীর্ণ হয়ে আসছে এবং ইরান তাদের পারমাণবিক অবস্থানের ক্ষেত্রে নমনীয় হয়নি।
বৃহস্পতিবার সিএনএনকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত টম ব্যারাক বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে একটি প্রক্রিয়ায় ঐকমত্যে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরিতে আঞ্চলিক মিত্ররা সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, আসুন কিছুটা বিরতি নিই, উত্তেজনা কমিয়ে আনি। তিনি দাবি করেন, উভয় পক্ষই এই প্রাথমিক বোঝাপড়ায় পৌঁছানোর ‘খুব কাছাকাছি’ রয়েছে।
গত সপ্তাহে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মোহসেন রেজায়ির কাছে একটি পাঠানো হয়েছে জেডি ভ্যান্সের চিঠি। চিঠিতে উভয় দেশের জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো উল্লেখ করে বলা হয়, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য।
সূত্র: গালফ নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন