প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন ভূ-রাজনৈতিক কৌশল উন্মোচন করেছেন, যা ইরান সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অস্থিরতা নিরসনে সহায়ক হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক নৌপথে ইরানের ধারাবাহিক বাধা সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই সংযোগ করিডোরটি সবচেয়ে কার্যকর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমাধান হতে পারে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলে (জিসিসি) অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি 'ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর' বা 'আইএমইইসি' প্রকল্পের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা এবং সামুদ্রিক পথে তাদের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।" তিনি আরও জানান, তেহরানের নিয়ন্ত্রণাধীন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ চেকপয়েন্টগুলো এড়িয়ে নিরাপদ উপায়ে তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে আইএমইইসি করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ট্রাম্পের প্রশাসন এই বৃহৎ বহুমাত্রিক উদ্যোগে পূর্ণ অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে, যাতে পাইপলাইন বা বিকল্প যে কোনো মাধ্যমের সাহায্যে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে যৌথ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পের সূচনা হয়। মূলত দক্ষিণ এশিয়া, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইউরোপের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটি দুটি প্রধান রুটে বিভক্ত করা হয়েছে; পূর্ব রুটটি ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করবে এবং উত্তর রুটটি উপসাগরকে ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।
এই করিডোরে অন্তর্ভুক্ত থাকবে সমন্বিত রেললাইন, নতুন শিপিং নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল যোগাযোগের ক্যাবল লাইন এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন হাইড্রোজেন পরিবহণের পাইপলাইন। এর ফলে ভারত ও ইউরোপের মধ্যবর্তী বাণিজ্য সময় অর্ধেকেরও বেশি কমে যাবে এবং চীন ঘোষিত 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (বিআরআই)-এর একটি শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে উঠবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে একটি চরম সতর্কবার্তা প্রদান করেন। তিনি দাবি করেন, "ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।" ট্রাম্প সতর্ক করে দেন যে, ইরান যদি দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে এক সময় তাদের টিকে থাকার কোনো সুযোগই থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি গত বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করেন, ওই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ইতোমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন