প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি হাইস্কুলে কর্মরত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রেমন্ড কার্নারকে একাধিক নারীর দ্বারা করা অনৈতিক ও যৌন আচরণের অভিযোগের কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কোরাল স্প্রিংস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রেমন্ড কার্নার ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত কোরাল স্প্রিংসের জে পি তারাভেলা হাইস্কুলে প্রায় আট বছর ‘স্কুল রিসোর্স অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে পুলিশ বিভাগ থেকে স্বাভাবিক অবসরে যাওয়ার পর, তিনি একই বছর পার্টটাইম মৌসুমি কর্মকর্তা হিসেবে আবার কাজে ফিরে আসেন। পরে ঈগল রিজ এলিমেন্টারি স্কুলেও তার দায়িত্ব ছিল।
সম্প্রতি, কয়েকজন নারী তার বিরুদ্ধে অনভিপ্রেত ও যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার সাথে সাথে তাকে তৎক্ষণাৎ তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তদন্তের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, কার্নারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু স্পর্শকাতর অভিযোগ রয়েছে। এক সাবেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তিনি দেখেছেন যে কার্নার তার পোশাকের ভেতর হাত দিয়ে জোরপূর্বক টাকা রাখার চেষ্টা করেছিলেন। অন্য একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, স্কুলে পড়ার সময় কার্নার ফেসটাইমে তাকে পর্নোগ্রাফি দেখাতেন এবং অশালীন আচরণ করতেন। অভ্যন্তরীণ তদন্তে তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন, অশ্লীল প্রদর্শন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের অশালীন উপকরণ দেখানোর মতো একাধিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
যদিও তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে, রেমন্ড কার্নারের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের হচ্ছে না। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলোর বেশিরভাগ ঘটনাই আইনে নির্ধারিত নির্দিষ্ট সময়সীমা (স্ট্যাটিউট অব লিমিটেশনস) পার হয়ে গেছে, ফলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রশাসনিকভাবে বরখাস্ত হওয়া সত্ত্বেও আদালতে তিনি ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হননি।
কোরাল স্প্রিংসের পুলিশ প্রধান ব্র্যাড মক পুরো ঘটনাকে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের ঘটনার শিকার যদি আর কোনো ভুক্তভোগী থাকে, তাহলে তাদের সংকোচ না করে তথ্য দিতে পুলিশ বিভাগে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন