প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, অতিরিক্ত গতি এবং চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের জানাজা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুর্ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছে, তা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটিতে ডেপুটি ডিরেক্টর নজরুলকে প্রধান করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আপাতদৃষ্টিতে যতটুকু জানা গেছে, এটি সম্ভবত চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে ঘটেছে। ওই জায়গাটি ফাঁকা ছিল এবং গাড়িটি মোড় নেওয়ার সময় সম্ভবত গতি বেশি ছিল। অতিরিক্ত গতির কারণে চালক গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি এবং ডান দিকে ঘুরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান।
তিনি জানান, গাড়িটি নির্ধারিত পথে মোড় নিতে না পেরে সামনে চলে যায় এবং আন্ডারপাসের নিচে পড়ে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি বলেন, সাধারণত ওই জায়গায় কোনো গাড়ি যাওয়ার বা নিচে পড়ে যাওয়ার কথা নয়। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নন তিনি। মন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটি সব বিষয় খতিয়ে দেখবে এবং তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দুর্ঘটনার স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার কথা জানিয়ে বলেন, ঘটনার সময়ের ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, থার্ড টার্মিনালসহ পুরো এলাকাটি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। ফলে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা ফুটেজ দেখেই অনেকটা স্পষ্ট হওয়া সম্ভব। তদন্ত কমিটি সেসব ফুটেজও পর্যালোচনা করবে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতার বর্ণনা দিতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত একজন আনসার সদস্য প্রথমে দুর্ঘটনার বিষয়টি দেখতে পান। পরে তিনি অন্যদের খবর দিলে প্রায় ১০ জন আনসার সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার পর উল্টে যাওয়া গাড়িটি সোজা করা হয়। এরপর হতাহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। তিনি জানান, সিএমএইচে নেওয়ার পর তিনজনের মৃত্যু হয়। একজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।
তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়তে পারে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন টার্মিনাল দেখতে অনেক উৎসুক মানুষ সেখানে আসতে পারেন। তাদের মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুরাও থাকতে পারে। তাই দুর্ঘটনাস্থল ও আন্ডারপাসের আশপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষ যাতে নিচের দিকে উঁকি দিতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার কোনো ঝুঁকিতে না থাকে, সে জন্য এখনই প্রটেকটিভ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে আমার ধারণা, ফাঁকা জায়গা দেখে গাড়ির গতি বেশি ছিল এবং চালক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তবে এটি শুধু প্রাথমিক ধারণা। তদন্ত কমিটি সবকিছু খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তৃতীয় টার্মিনাল এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন