প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ : আজ ভোরে সুদানের রাজধানী খার্তুম এবং উত্তরাঞ্চলের আরও দুটি শহরে ড্রোন হামলা হয়েছে। এএফপির একজন সংবাদদাতা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বেশ কিছু মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পরে, রাজধানীতে এটি একটি সমন্বিত হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।
এটি খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদান ভয়াবহ যুদ্ধে জর্জরিত। একদিকে দেশটির সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বাধীন সুদানি সেনাবাহিনী, অন্যদিকে তার সাবেক উপপ্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগলো-র নেতৃত্বাধীন আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে এই সংঘর্ষ চলছে।
রাজধানী খার্তুম গত বছর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে। এর ফলে প্রায় ২৩ লাখ মানুষ শহরটিতে ফিরে আসেন। এর আগে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হলেও, গত কয়েক মাস শহরটি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল।
খার্তুমে থাকা এএফপির সংবাদদাতা জানান, স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে ড্রোন হামলার শব্দ শোনা যায়। একই সময়ে রাজধানীর যমজ শহর ওমদুরমানের ঠিক উত্তরে সেনাবাহিনীর ওয়াদি সাইদনা ঘাঁটির দিক থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার শব্দও শোনা যায়।
সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তরাঞ্চলের আতবারা ও এল-দামার শহরের প্রত্যক্ষদর্শীরাও একই ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা এবং আকাশে ড্রোন দেখতে পাওয়ার বিষয়ে জানান।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সুদানজুড়ে ত্রাণকর্মীদের মতে, চলমান এই যুদ্ধে ২ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই সংঘাতকে ‘নৃশংসতার যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি হয়েছে।
একসময় যে দুই নেতা মিত্র ছিলেন, বুরহান এবং দাগলো এখন ক্ষমতার তীব্র দ্বন্দ্বে পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। যুদ্ধের বেশিরভাগ সময় দুই পক্ষই অনেকটা অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। সিদ্ধান্তমূলক সামরিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করতে গিয়ে তারা আলোচনায় বসতেও ভিন্নতা দেখাচ্ছেন।
গত বছর আরএসএফ পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ দারফুর অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে। এরপর তারা দক্ষিণের কর্দোফান অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বে ইথিওপিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালায়।
অন্যদিকে সেনাবাহিনী দেশের মধ্য, উত্তর ও পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। গত মাসে কর্দোফানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক থেকে আরএসএফকে সরিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনী সফলতা অর্জন করে। ওই সড়কটি রাজধানীর সঙ্গে সংযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
এর পর দাগলো ঘোষণা করেন, তিনি তার যোদ্ধাদের ‘মুক্ত করে দেবেন’। তার বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে আরএসএফ বারবার বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দিয়ে আসছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন