প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বন্যা এবং ভারি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশের চারটি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন। তারা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সরকারের কাছে জরুরি নীতিগত এবং আর্থিক সহায়তা চেয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে তারা একটি যৌথ চিঠি পাঠায় যাতে এই দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
এই সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বন্যা এবং জলাবদ্ধতার কারণে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরে পণ্য খালাস, সংরক্ষণ এবং পরিবহন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে আমদানি করা তুলা, সুতা, কাপড়, রাসায়নিক, প্যাকেজিং সামগ্রীসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের আর্দ্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ছাড়া, তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের চালান বিলম্বের ফলে রপ্তানি আদেশ বাতিল, মূল্যছাড়, বিলম্বজনিত জরিমানা এবং বিমানপথে পণ্য পাঠানোর বিপজ্জনক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে যে, গত ৫ জুলাই থেকে টানা ভারি বৃষ্টি চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন কনটেইনার ইয়ার্ড এবং বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) পানি ঢুকে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যগুলোর ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। এ অবস্থা চলাকালীন ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্যাজনিত পণ্য ক্ষতির দায় অস্বীকার করে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, তা আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টির কারণ হয়েছে।
সংগঠনগুলো মনে করে যে, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অথবা ব্যবস্থাপনার ত্রুটি থাকলে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা উচিত।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, দীর্ঘ সময় কনটেইনার আটকে থাকায় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ডেমারেজ, ডিটেনশন, পোর্ট রেন্ট, স্টোরেজ এবং অন্যান্য চার্জ গুনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কাঁচামাল সরবরাহ ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় শিল্প উৎপাদন, নগদ অর্থ প্রবাহ, শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান।
এই পরিস্থিতির মোকাবেলায় সংগঠনগুলো ৯ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সড়ক এবং রেল যোগাযোগ দ্রুত সচল করা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিশেষ কমিটি গঠন করা, ডেমারেজ, স্টোরেজসহ বিভিন্ন চার্জ আংশিক বা পুরোপুরি মওকুফ করা, জরুরি পণ্যের জন্য দ্রুত কাস্টমস ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করা, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের জন্য স্বল্পসুদে পুনঃঅর্থায়ন এবং কার্যকরী মূলধন ঋণ প্রদান, ঋণ পরিশোধে সময় বৃদ্ধি, এলসি এবং আমদানি-রপ্তানির সময়সীমা বাড়ানো, কর এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ছাড় দেওয়া এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন করা।
এছাড়াও পরিস্থিতি মোকাবেলায় নৌপরিবহন, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্ত মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী বন্যা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে একটি জাতীয় ট্রেড কনটিনিউটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে সংগঠনগুলো থেকে।
যৌথ চিঠিতে সই করেছেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন