প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার জন্য কোনো জামানত প্রয়োজন হয় না। এই ঋণের সুদহারও তুলনামূলকভাবে কম।
বিসিকের এই ঋণ পেতে উদ্যোক্তাদের কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশের ৬৪টি জেলায় অবস্থিত বিসিক কার্যালয়গুলোতে আবেদন করে যেকোনো সময় সরাসরি এই ঋণ নেওয়া সম্ভব।
বিসিকের যত ঋণ কর্মসূচি
বর্তমানে বিসিকের তিন ধরনের ঋণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রথমত, প্রণোদনা প্যাকেজ ঋণ কর্মসূচি। করোনার পর ২০২০–২১ অর্থবছর থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। পরবর্তীতে এটি পুনঃ অর্থায়ন তহবিলে রূপান্তরিত হয়। গত জুন মাস পর্যন্ত এই তহবিলের পরিমাণ ২৭০ কোটি টাকা হয়েছে। এই তহবিল থেকে ৯ হাজার ২৯১ জন ঋণ পেয়েছেন।
উদ্যোক্তাদের জন্য ২০১৫–১৬ অর্থবছর থেকে নিজস্ব অর্থায়নে একটি ‘বিনীত’ (বিসিক নিজস্ব তহবিল) ঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়। মাত্র ১৫ কোটি টাকা দিয়ে শুরু হওয়া এই তহবিলের পরিমাণ বর্তমানে ১৫০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত জুন মাস পর্যন্ত ৮ হাজার ৮৭৩ জন এই তহবিল থেকে ঋণ পেয়েছেন।
প্রান্তিক পর্যায়ের মৌচাষিদের জন্য ২০১৯ সাল থেকে আলাদা একটি ঋণ কর্মসূচি বিসিক চালু করেছে। বর্তমানে এই তহবিলের আকার ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। মৌচাষিরা এখানে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৯৭ জনকে এই ঋণ প্রদান করেছে বিসিক।
বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, সকল কর্মসূচির ক্ষেত্রে ঋণের সুদহার ও অন্যান্য প্রক্রিয়া একই রকম।
ঋণের পরিমাণ ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া
উদ্যোক্তারা ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, শিগগিরই ঋণের এই সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে, সব ঋণের অনুমোদন বিসিকের জেলা কার্যালয় দিতে পারে না। উদ্যোক্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে বিসিক জেলা কার্যালয় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ঋণ অনুমোদনের ক্ষমতা ভাগ করা রয়েছে। বিসিকের জেলা কার্যালয় সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অনুমোদন করতে পারে। ৫ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অনুমোদন দেয় আঞ্চলিক কার্যালয়। আর ১০ লাখ টাকার বেশি (২০ লাখ টাকা পর্যন্ত) ঋণের অনুমোদন দেয় বিসিকের প্রধান কার্যালয়।
ঋণের শর্ত কী
বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সম্পূর্ণ জামানতমুক্ত। এই ক্ষেত্রে শুধু একজন জামিনদার (গ্যারান্টার) থাকলেই ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
দুই লাখ টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে ‘ইকুইটেবল মর্টগেজ ডিড’ এর মাধ্যমে উদ্যোক্তার নিজস্ব জমি বা বাড়ির কাগজপত্র বিসিক কার্যালয়ে বন্ধক রাখতে হবে। কোনো ব্যাংক বা তৃতীয় পক্ষের জটিলতা ছাড়াই এই কাজ বিনা খরচে বিসিক কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়। ঋণ পরিশোধের পর উদ্যোক্তা তাদের কাগজপত্র ফেরত পাবেন।
বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২–এ বর্ণিত যেকোনো ধরনের শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠান এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারে। তবে নতুন উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা, বিসিক শিল্প নগরীর শিল্প প্লটের মালিক ও উদ্যোক্তা এবং রপ্তানিমুখী খাতগুলোকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
সুদের হার ও মেয়াদ
বিসিকের ঋণ কর্মসূচিতে সুদের হার অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সুলভ। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ সুদহারে এই ঋণ প্রদান করা হয়। পুরুষ উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ঋণের সুদের হার ৬ শতাংশ। এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদে এই ঋণ পরিশোধের সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে সাধারণ ব্যাংকঋণের সুদহার ১৫ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। অর্থাৎ, ব্যাংকঋণের তুলনায় অনেক কম সুদে বিসিক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারেন উদ্যোক্তারা।
ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার ন্যূনতম ৩০ শতাংশ ইকুইটি এবং নারী উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ ইকুইটি নিশ্চিত করতে হবে। উদ্যোক্তার বিনিয়োগকৃত জমি, কারখানা ঘর, যন্ত্রপাতি ও সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক স্থায়ী বিনিয়োগ ইকুইটি হিসেবে গণ্য করা যাবে। একক অথবা অংশীদারি মালিকানা উভয় ক্ষেত্রেই ঋণ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন