প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : ওপেনার ফখর জামানের সেঞ্চুরি এবং আরাফাত মিনহাসের ঝড়ো হাফ-সেঞ্চুরির মাধ্যমে স্বাগতিক পাকিস্তান ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা অর্জন করেছে।
গত রাতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনালে পাকিস্তান ৩ উইকেটে শ্রীলংকাকে পরাজিত করে। এটি ছিল পাকিস্তানের জন্য দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনাল জয়ের ঘটনা। এর আগে তারা নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত তিনটি ওয়ানডে ফাইনালে পরাজিত হয়েছিল।
শ্রীলংকা প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩২৫ রান সংগ্রহ করে। পাকিস্তান ৩২৬ রান তাড়া করতে নেমে ৪৮.৩ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৩১ রান তুলে শিরোপা অর্জন করে।
ওয়ানডে ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে পাকিস্তান সর্বোচ্চ রান তাড়া করে ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে ভারতের ২৪ বছর পুরনো রেকর্ড সমতুল্য করে। ২০০২ সালে লর্ডসে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনালে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩২৬ রানের টার্গেট স্পর্শ করে ভারত ২ উইকেটে জয় লাভ করেছিল।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং শুরু করে শ্রীলংকা। তারা ৮৭ রানের সূচনা করে। ওপেনার আভিস্কা ফার্নান্দো ৩৮ রান করেন। অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস তিন নম্বরে নেমে ৮ রানে আউট হন।
দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর কামিন্দু মেন্ডিস ও পাবান রত্নানায়েকে জুটি বাঁধেন। তারা ১১৯ বলে ১৪৬ রানের জুটি গড়ে শ্রীলংকাকে বড় সংগ্রহের ভিত্তি প্রদান করেন। এই জুটিতে কামিন্দু ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন।
কামিন্দু ১৩১ রানে আউট হন। তার ইনিংসে ১২৮ বলের মধ্যে ১২টি চার ও ২টি ছক্কা ছিল। রত্নানায়েকে ৭৭ রানে আউট হন, তার ইনিংসে ৬৫ বলের মধ্যে ৮টি চার ছিল। শেষ দিকে সাহান আরাচ্চিগের ১৫ রানের সুবাদে শ্রীলংকা ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২৫ রানের সংগ্রহ পায়।
পাকিস্তানের চার বোলার ২টি করে উইকেট নেন।
পাকিস্তান জবাবে পেসার দিলশান মাধুশঙ্কার তোপে শুরুতে ১৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। মাজ সাদাকাত ৫ রান ও বাবর আজম খালি হাতে ফিরে যান।
তৃতীয় উইকেটে ফখর ও সাদ বেগ শ্রীলংকার বোলারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের ১৪০ বলের ১৪৯ রানের জুটিতে পাকিস্তান লড়াইয়ে ফিরে আসে। জুটিতে ৭৫ বলে ৭৪ রান তুলে বেগ ফিরে যান, তবে ৮৪ বলে ফখর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি তুলে নেন।
৩৪তম ওভারে দলের ২২০ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে ফখর ফিরে গেলে পাকিস্তানের জয়ের জন্য ৯৮ বলে ১০৬ রান প্রয়োজন ছিল। ৩৭তম ওভারে সালমান আঘা ১৭ রানে বিদায় নিলে ক্রিজে আসেন মিনহাস।
মিনহাস শুরুতে ১৫ বলে ১৩ রান তুললেও, ৪৩তম ওভর থেকে ঝড় শুরু করেন। তিনি ২৮ বলে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন। ৪৮তম ওভারে মিনহাস আউট হলে দলের বাকি ২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করেন হাসান নাওয়াজ ও অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। হাসান ৩৭ ও আফ্রিদি ৬ রানে অপরাজিত থাকেন। মাধুশঙ্কা ৩ উইকেট নেন।
ফাইনালে ম্যাচ সেরা হন ফখর এবং টুর্নামেন্ট সেরা হন মিনহাস।
লিগ পর্ব থেকে বিদায় নেয় টুর্নামেন্টের অন্য দল ইংল্যান্ড।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন