প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে একটি ভাসমান বাড়ি বিক্রির জন্য বাজারে আনা হয়েছে। বাড়িটির দাম ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি মিশন ক্রিক এলাকায় ওরাকল পার্কের নিকটে অবস্থিত ২০টি ভাসমান বাড়ির মধ্যে একটি। সাধারণত, স্থানীয় পরিবারগুলো এসব বাড়ি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যবহার করে থাকে, তাই প্রকাশ্য বাজারে এর বিক্রি একটি বিরল ঘটনা।
বাড়িটির মালিক টাইসন গ্রাহাম। তিনি ২০০২ সালে মাত্র ২ লাখ ২৫ হাজার ডলারে হাউসবোটটি ক্রয় করেছিলেন। তখন এটি ছিল ৪০ ফুটের একটি নৌযান, যার সঙ্গে ৪০ ফুটের নোঙর করার জায়গাও ছিল। বাড়িটির আয়তন তখন ৩০০ বর্গফুটেরও কম ছিল, যদিও সামনে ও পেছনে দুটি ডেক ছিল।
গ্রাহাম, যিনি শিকাগোর বাসিন্দা, নিজের শ্রম এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে বাড়িটির ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে তিনি ছোট নৌযানটিকে প্রায় ১ হাজার ৯০০ বর্গফুটের একটি আবাসিক বাড়িতে রূপান্তরিত করেন। বর্তমানে বাড়িটিতে তিনটি শয়নকক্ষ এবং তিনটি বাথরুম রয়েছে।
হাউসবোটটি তৈরির সময় গ্রাহামের পরিকল্পনায় দুটি আলাদা আবাসিক ইউনিট রাখার ব্যবস্থা ছিল। তিনি ওপরের তলাটি আলাদা ভাড়ার ইউনিট হিসেবে এবং নিচের তলাটি নিজের জন্য রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরবর্তীতে, ওপরের তলার আলাদা ইউনিটটি পরিবর্তন করে একটি বড় মূল শয়নকক্ষে পরিণত করা হয়, যেখানে একটি বাথরুম এবং বড় পোশাক রাখার কক্ষ রয়েছে। ফলে বর্তমানে পুরো বাড়িটি একটি বড় আবাসিক ইউনিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মিশন ক্রিক এলাকায় ভাসমান বাড়িগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির ঘটনা খুবই কম। গ্রাহামের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি হাউসবোট প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির জন্য উঠেছে। তার বাড়িটিও সেই বিরল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এর দাম ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
তবে, বাড়িটি কিনতে হলে শুধুমাত্র বিক্রয়মূল্য পরিশোধ করলেই হবে না। মালিককে প্রতি মাসে নোঙর করার জায়গার জন্য অতিরিক্ত খরচও করতে হবে। গ্রাহামের দাবি, এই খরচ সান ফ্রান্সিসকো শহরের অধিকাংশ আবাসন মালিক সমিতির মাসিক ফি অপেক্ষা কম।
পানির ওপর ভাসমান হলেও, গ্রাহাম জানিয়েছেন যে বাড়িটিতে স্থলভাগের বাড়ির মতোই স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা যায়। তার মতে, পানির ওপর থাকার কারণে বাড়িটিতে আলাদা কোনো বিশেষ ব্যবস্থা বা নিয়মের প্রয়োজন হয় না। তবে প্রবল বাতাসে বাড়িটি দুলতে শুরু করলে তখনই বোঝা যায়, এটি পানির ওপর ভাসমান।
এই বাড়ির সঙ্গে গ্রাহামের অনেক স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। তিনি নৌকায় করে ফেরি ভবনের কৃষকের বাজারে যাওয়া এবং চ্যানেল স্ট্রিট এলাকার মানুষের সঙ্গে কাটানো সময় মিস করবেন বলে জানিয়েছেন।
গ্রাহাম প্রায় ২৫ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছেন। বর্তমানে তার বাড়ি সানোমা কাউন্টিতে। শহরের জীবন থেকে দূরে গিয়ে অবসর জীবনের পরবর্তী সময় কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
গ্রাহাম নিজের সিদ্ধান্তের কারণও জানিয়েছেন। তিনি কখনো বিয়ে করেননি এবং তার কোনো সন্তানও নেই, যে ভবিষ্যতে বাড়িটির দায়িত্ব নিতে পারে। কয়েক বছর আগে অবসর নেওয়ার পর, এখন জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে হাউসবোটটি বিক্রি করছেন তিনি।
সূত্র: সিবিএস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন