প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কক্সবাজারে পর্যটকদের হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। সাগরপারে বেড়াতে আসা পর্যটকরা প্রায়শই বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সাগরপারের প্রকাশ্য দিবালোকেও একদল পর্যটক ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। ছিনতাইকারীরা পর্যটকদের টাকা ছিনতাই করার পরও একজনকে ছুরিকাঘাত করার সময় আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরের জেটি এলাকায় ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের ধাক্কায় এক শিশু পর্যটক নিহত হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটেছিল গতকাল দুপুর ২টার দিকে কলাতলি সৈকত তীরের ওয়ার্ল্ড বিচ হোটেল সংলগ্ন রাস্তায়। আটক হওয়া ছিনতাইকারির নাম জামাল উদ্দিন (১৮)। তিনি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা বাজারের ইদ্রিস শেখের ছেলে।
ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া পর্যটক মাহফুজ আনাম, যিনি রাজধানী ঢাকা থেকে এসেছেন, কালের কণ্ঠকে জানান, তারা ১১ জন সহপাঠী ঢাকা থেকে বান্দরবান হয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন সোমবার। তাদের দলের কয়েকজন রিসোর্টের কক্ষ থেকে বের হতেই ৪/৫ জনের ছিনতাইকারী দলের কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীরা ছুরি ধরে পর্যটকদের পকেট হাতিয়ে নগদ দেড় হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর একজন ছিনতাইকারী ছুরিকাঘাত করতে উদ্যত হলে তাকে আটক করা হয়। অন্যরা সটকে পড়ে যায়। পর্যটকরা হাতেনাতে ধরে ছিনতাইকারীকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সোপর্দ করেন।
ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে ক্ষুব্ধ পর্যটক মাহফুজ আনাম কালের কণ্ঠকে বলেন, “দিনে-দুপুরে হাজারো পর্যটকের সামনে এত বড় ছুরি ঠেকিয়ে এ ধরনের ঘটনা যদি ঘটে সেখানে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? কক্সবাজারের মতো এরকম একটা জায়গাতে লাখ লাখ টাকা আমরা ব্যয় করতে আসি, বছরে কতই পর্যটক এখানে আসে। নিরাপত্তাই যদি দিতে না পারে সরকার তাহলে বলে দিক আর কক্সবাজারে না আসতে।”
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী কালের কণ্ঠকে জানান, “পর্যটন শহরে ছিনতাই রোধকল্পে প্রতিদিনই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ৪৫ দিনে পুলিশ ৮৯৫ জন অপরাধীকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে অন্তত ২০০ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারী রয়েছে। তারপরেও দুয়েকটা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।” তিনি আরও জানান, ছিনতাই একেবারে বন্ধ হয়নি। তবে আগে ১০টি হলে এখন হয়তোবা একটি হচ্ছে।
মহেশখালীতে বেড়াতে এসে প্রাণ গেল ৫ বছরের আফরিনের।
বাবার কাছে বায়না ধরেছিল, একটি ঠান্ডা পানীয় কিনে দিতে হবে। হয়তো ছোট্ট আবদারটি পূরণও করেছিলেন বাবা। কিন্তু কে জানত, দিনের শুরুতে আদরের মেয়ের সেই বায়নাই একসময় স্মৃতি হয়ে থাকবে। মহেশখালীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাদের। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কক্সবাজারে ঘোরার পরিকল্পনা ছিল। অথচ তার আগেই সব আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো। মহেশখালীর আদিনাথ জেটি এলাকায় মিশুকের ধাক্কায় প্রাণ গেল পাঁচ বছরের শিশু আফরিন সুলতানার।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার আদিনাথ জেটি এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার (মিশুক) ধাক্কায় আফরিন নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তার সাত বছর বয়সী কাজিন আয়ান। দুজনের বাড়ি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকায়। নিহত আফরিনের বাবার নাম আল আমিন এবং মায়ের নাম শেখ হাসিনা। আফরিনের মামা মেসবাহ উদ্দীন ভূঁইয়া জানান, সকাল ১১টার দিকে দ্রুতগতির মিশুকের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর মিশুকচালক তাকিল (১৮) পালিয়ে গেছে।
পর্যটন মৌসুমে মহেশখালীর আদিনাথ জেটি এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মহেশখালীতে বেড়াতে এসে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটানোর কথা ছিল ছোট্ট আফরিনের। বাড়ি ফেরার কথা ছিল নতুন স্মৃতি নিয়ে। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তার জীবন, আর পরিবারের কাছে রেখে গেল এমন এক শূন্যতা, যা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ার মেরিন ড্রাইভের ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন পর্যটক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন