প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে গড়ে ওঠা আন্দোলন মোদি সরকারের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল দেশের তরুণদের নতুন প্লাটফর্ম ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টির মাধ্যমে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় তরুণদের নতুন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন প্লাটফর্মটির প্রধান অভিজিৎ দিপকে। তার নেতৃত্বে চলা টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের চাপের মুখে বিজেপি সরকার এক প্রকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন এবং আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট সব দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হয়েছে।
এই সফল আন্দোলনের পর এখন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) প্রধান অভিজিৎ দিপকে নতুন এক বার্তা দিয়েছেন। শনিবার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘এটি কেবল শুরু, পথ এখনও অনেক বাকি।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকার সিজেপির অন্যান্য দাবি মেনে নেওয়ার ফলে ককরোচ পার্টির প্রধানের জন্য এখন কিছুটা বিশ্রামের সময় এসেছে। দেশব্যাপী গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের ৩০ বছর বয়সী মুখ সেজন্য বিশেষভাবে বিশ্রামের মুহূর্তগুলো উপভোগ করছেন।
তেলাপোকা পার্টির প্রধানও জানিয়েছেন, ‘কী করতে হবে কিংবা সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটবে—এসব চিন্তা না করেই আমি ঘুমাতে যেতে পারছি এবং নিজের শোবার ঘরে ঘুম থেকে উঠতে পারছি।’
রোববার সকালে পোস্ট করা ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ বলেন, এখন আর কোনো উৎকণ্ঠা নেই। আন্দোলনের ৩৭ দিনকে তিনি ‘সত্যিই অত্যন্ত কঠিন’ বলে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে অভিজিৎ বলেন, এটি কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির এখনও অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার বাকি।
ভারতের প্রধান বিচারপতি তরুণদের ‘তেলাপোকা’ নাম দিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করার পর গত মে মাসে সিজেপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অভিজিৎ। পরবর্তী প্রায় ৭০ দিনের মধ্যে তা দেশের নতুন প্রজন্মের শক্তিকে এক সুতোয় গাঁথা বিশাল আন্দোলনে রূপ নেয়।
খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার ‘তেলাপোকা’ নিজেদের সিজেপির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দান করে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র দখল করে নেন। ভারতের ক্ষমতার প্রাণকেন্দ্রের নিকট অবস্থিত ঐতিহাসিক আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তরে ককরোচদের ‘ইনকিলাব’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং চাকরিপ্রার্থীদের আত্মহত্যার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করেন শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীরা। তারা বিক্ষোভের মাধ্যমে তার পদত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। সরকারের গড়িমসিতে প্রতি মুহূর্তে হাজার হাজার সমর্থক যোগ দেন ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলনে।
আন্দোলনের ৩৭ দিনের মাথায় শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সিজেপি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।
তবে, এই পথটি সহজ ছিল না বলে ভিডিও বার্তায় স্মরণ করে দিয়েছেন অভিজিৎ। অনেকেই নানা সন্দেহ প্রকাশ করলেও যারা সিজেপিকে সমর্থন করেছেন, তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। টাইফয়েডে আক্রান্ত ও জ্বরে ভুগছিলেন এই তরুণ আন্দোলনকর্মী, তাই গতকাল যন্তর মন্তরে উপস্থিত সকলকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে পারেননি।
ভিডিওতে তিনি বক্তব্য রাখেন, যারা দীর্ঘ ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে অপেক্ষা করেছেন, আমি আপনাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর আমি আপনাদের বলতে চাই, আপনারা এই দেশের জন্য যা করেছেন, তা আমি সত্যিই মন থেকে অনেক অনেক সম্মান করি।
যারা সমালোচনা করেছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। অভিজিৎ দিপকে জানান, তাদের গঠনমূলক সমালোচনা ও প্রশ্নের মাধ্যমেই তিনি নিজের ভুলত্রুটি শুধরে নিতে পেরেছেন এবং কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন