প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীতে পড়াশোনা করতে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য আবেগ এবং আশার প্রদীপ হিসেবে পরিচিত ঢাকা কলেজ। তবে, কলেজটিতে ভর্তি হওয়ার পর আবাসন সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিড়ম্বনায় পড়েন।
অসচ্ছল বা নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগেন। শহরের উচ্চ ব্যয় বহন করার সক্ষমতা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর নেই। ফলে, হলে একটি সিট তাদের জন্য শুধুমাত্র একটি সুবিধা নয়, বরং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু কলেজের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী সেই সিটের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিঠু দাসের কথা উল্লেখ করা যায়। তিনি দুই মাস আগে বাবাকে হারিয়েছেন। শহরের ব্যয়বহুল পরিবেশে নিজের খরচ চালানোর জন্য ফুডপান্ডায় ডেলিভারি কাজ শুরু করেছেন। হলে একটি সিট পেলে তার অনেক কষ্ট লাঘব হতে পারত। মিঠু দাসের মতো অনেক শিক্ষার্থী আবাসন সংকটের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি আয়-রোজগারের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
কলেজের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৯ হাজার, হলে সিট ১৩৬৪। ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্স-মাস্টার্স মিলিয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজারের বেশি। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৪০০ এবং অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। কলেজের আটটি হলে মোট সিট সংখ্যা মাত্র ১ হাজার ৩৬৪। উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৪২টি এবং অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য ৯২২টি সিট রয়েছে।
কলেজের আটটি হলের মধ্যে বিজয় ২৪ হলটি পাঁচ তলাবিশিষ্ট এবং এটি সম্পূর্ণরূপে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ। এখানে মোট সিট সংখ্যা ১৬৬টি। অন্য সাতটি হলে উত্তর ও দক্ষিণ হলে ৩২৮টি করে ৬৫৬টি সিট, দক্ষিণায়ন হলে ১৯২টি, আন্তর্জাতিকে ১৩৮টি, পশ্চিম হলে ৯৬টি এবং ফরহাদ হলে ১৬৬টি সিট রয়েছে। কলেজের ইলিয়াস হলটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, ফলে সেখানে সিট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।
অবাসন সংকটের কারণে অনার্সের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষ থেকেই হলের আসন পান না। ফলে, ঢাকা শহরে উচ্চশিক্ষার জন্য আসা নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন নিয়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন। পরিবারের সীমিত আয়ের কারণে শহরের মেস বা হোস্টেলের ব্যয় বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদুল রশিদ জানান, "কলেজে এসে জানতে পারি প্রথম বর্ষে নাকি হল সংকটের কারণে সিট দেওয়া হয় না। হলের সিট সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়, এখন ভবিষ্যতেও সিট পাব কিনা তাও বুঝতে পারছি না।"
কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, "আমাদের হলে সিট অপর্যাপ্ত। ফার্স্ট ইয়ারে সিট দিলে সে তো পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে আর সিট ছাড়বে না। তখন সিনিয়ররা বঞ্চিত হবে। তাদের প্রয়োজনটা অনেক বেশি। আগে শুধু থার্ড ইয়ার ফোর্থ ইয়ারে পেত। এবারই প্রথম ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সেকেন্ড ইয়ার থেকে সিট দিয়েছি।"
দক্ষিণায়ন হলের প্রভোস্ট ও দর্শন বিভাগের প্রভাষক নাজমুল হাসান নয়ন বলেন, "এটি খুবই দুঃখজনক। মাত্র ৮% শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাচ্ছে। তবে এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একটি ১০ তলা আবাসিক হল নির্মাণের কথাও রয়েছে। আমরা আশা করি, অতিদ্রুত নতুন হল নির্মাণের কাজ শুরু হবে।"
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজের আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস হলটি ১৯৯৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। গত বছরের জুলাই মাসে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মু. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে হলটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ছাত্রদের জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র স্থানান্তর করতে বলা হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, "হল খালি করার জন্য আমরা নোটিশ দিয়েছি, কিন্তু এখনও হলের নিচ তলায় কিছু শিক্ষার্থী রয়েছে। হল খালি হয়ে গেলেই ভাঙার কাজ শুরু হবে। আমরা অলরেডি ডিসিকে হল ভাঙার জন্য চিঠি দিয়েছি।"
নতুন একটি হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, "আমরা মনে করেছিলাম এটা হবে। পরে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখি এটা একেবারেই হাওয়ার ওপরে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন