প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরাক থেকে শেষ মার্কিন সেনা চলে গেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করেন, ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাম্প এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির প্রশংসা করে বলেন, এই নেতার ভূমিকা ইরাকের পরবর্তী অধ্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, তিনি শুরু থেকেই আলী আল-জায়েদিকে সমর্থন করেছেন। তার দাবি, প্রত্যাশা না থাকা সত্ত্বেও আলী আল-জায়েদি নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।
এদিন পেন্টাগন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পরিচালিত ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। মার্কিন ও জোটের সেনা এবং সামরিক সরঞ্জাম উত্তর ইরাকের এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়।
ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিনের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে জড়িয়ে পড়েছিল। এখন সেই অধ্যায় ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিল খিলাফত প্রতিষ্ঠাকারী জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে। সেই খিলাফত আর নেই, তাই যুক্তরাষ্ট্র দেশে ফিরছে।
তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানের মতো ইরাকে কোনো সামরিক সরঞ্জাম ফেলে আসা হয়নি। প্রত্যাহারের সময় সব সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে জোটের বাহিনী ও সরঞ্জাম সুশৃঙ্খলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ২০২৪ সালের চুক্তির অংশ ছিল। ওই চুক্তির আওতায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শেষ করে ইরাকের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেশটির নিজস্ব বাহিনীর হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া-ইরাকবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক এই প্রত্যাহারকে ইরাকের জন্য নতুন সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার পর ইরাকের সব সশস্ত্র বাহিনীকে একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও একক কমান্ডের অধীনে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
যদিও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইসলামিক স্টেটের অবশিষ্ট সদস্য এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে সীমিতভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর দেশটিতে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি ছিল। ২০১১ সালে সেনা প্রত্যাহারের পর ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আবার মার্কিন সেনা ইরাকে মোতায়েন করা হয়। এবার সেই সামরিক অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিকতা দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর পর সমাপ্ত হলো।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন