প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রতি বছর বর্ষার সময়, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়ক এবং অলিগলি পানিতে তলিয়ে যায়। বছরের পর বছর শান্তভাবে বিচ্ছিন্ন উন্নয়নের প্রকল্পে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করার পরেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সেই অবস্থার পরিবর্তন করতে এবার সমন্বিত মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।
সরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) এবং বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় প্রণীত এই পরিকল্পনায় ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, খাল, আউটলেট, পাম্পিং স্টেশনসহ পুরো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনের একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
জানা গেছে, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে সরকারি গবেষণা সংস্থা আইডব্লিউএম-এর সহায়তায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কাজ শুরু করেছে। একইভাবে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সহায়তায় এই উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, প্রথম ধাপে তাদের পাঁচটি অঞ্চলের জন্য মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ের কাজ চলছে। পরে বাকি পাঁচটি অঞ্চলকে এর আওতায় আনা হবে। পরিকল্পনায় ড্রেনেজ লাইন, আউটলেট, খাল এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা থাকবে। এর ভিত্তিতেই প্রকল্পের পরিধি, অগ্রাধিকার, কর্মপদ্ধতি ও বাস্তবায়নের সময়সীমাসহ অন্যান্য সবকিছু নির্ধারণ করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
মহাপরিকল্পনা তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএসসিসির পুরো এলাকার মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ঘনবসতিপূর্ণ ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ ৫টি অঞ্চলের কাজ আগে করা হচ্ছে। আশা করছি, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কাজ শুরু হলে জলাবদ্ধতার একটি স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানের একটা প্রকল্প আমাদেরও নেওয়া হয়েছে। তবে ডিটেইলটা আমি বলতে পারব না।’
ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফরহাদ বলেন, ‘আমাদের ইনিশিয়েটিভটা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সঙ্গে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটি প্রজেক্টে বিষয়টি ইনক্লুড করা হয়েছে। শিগগিরই কাজটি শুরু করবে।’
২০২১ সালের আগে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব ছিল ঢাকা ওয়াসার হাতে। ২০১৫ সালে সংস্থাটি একটি ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছিল। কিন্তু পরে খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর হওয়ায় ওয়াসার মাস্টারপ্লান কার্যকর হয়নি। এরপর প্রায় পাঁচ বছর নতুন কোনো মহাপরিকল্পনা ছাড়াই দুই সিটি করপোরেশন বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও জলাবদ্ধতা কমেনি। বরং অনেক এলাকায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।
এবার সেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এ কারণে বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণের আগে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির গুরুত্ব দিয়েছে তারা। ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তাদের মতে, শুধু পরিকল্পনা করলেই হবে না, সেটি কঠোরভাবে অনুসরণ করে বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা যে জটিল আকার ধারণ করেছে, এটি নিরসনে সমন্বিত প্ল্যান (মাস্টারপ্ল্যান) সবার আগে জরুরি।’
‘তবে এটি মাস্টারপ্ল্যান কিনা জানি না। মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবেই যত প্রকল্প বা অর্থই খরচ করুক, তাতে কোনো কাজে দেবে না। বরং ভবিষ্যতে অপরিকল্পিত কাজগুলো আরও সংকট তৈরি করবে। যার প্রমাণ বর্তমান অবস্থা… (কোটি কোটি টাকা খরচের পরও জলাবদ্ধতা প্রকটই হচ্ছে)।’
জলাবদ্ধতা নিরসনে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে সম্প্রতি ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ট্রাস্টি এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি গাণিতিক মডেলিং ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্যা ব্যবস্থাপনা, নদী প্রকৌশল, উপকূলীয় সুরক্ষা এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনা করে আসছে।
শুধু তা-ই নয়, সিটি করপোরেশন, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পানি সরবরাহ ও ড্রেনেজ-সংক্রান্ত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে আইডব্লিউএমের। এ অভিজ্ঞতার কারণে জলাবদ্ধতা নিরসনের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংস্থাটিকে।
আইডব্লিউএমের প্রধান কর্মকর্তা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে ডিটেইল জানি না। এটুকু জানি যে, ঢাকা সাউথ (দক্ষিণ) সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আমাদের একটা অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের সংশ্লিষ্ট ডিরেক্টর বা সিটি করপোরেশনের রেসপন্সিবল পারসনদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’
আইডব্লিউএমের পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও নগর পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের (ডব্লিউএসইউ) পরিচালক তন্ময় চাকি বলেন, ‘আমরা মাত্র কাজ শুরু করেছি। এখনো আমরা ইনিশিয়াল পর্যায়ে আছি। আমাদের এক্সপার্টরা কাজ করছেন। বিস্তারিত বলা এখন কঠিন।’
তন্ময় চাকি আরো বলেন, ‘এটা বিভিন্ন অঞ্চল ধরে করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতার সমস্যাগুলো কী, কীভাবে সমাধান করতে পারি- সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।’
ডিএসসিসি প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘আইডব্লিউএমের কাছে প্রচুর ডাটা (উপাত্ত) আছে। বাংলাদেশের সব জায়গার ওয়াটার সেক্টর নিয়ে কাজ করছে তারা। অতীতের সব ডাটা তাদের কাছে রয়েছে। তাই তারাই সবচেয়ে ভালো মাস্টারপ্ল্যান করতে পারবেন। এই কারণেই জলাবদ্ধতা নিরসনে তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।’
ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ বৃষ্টির পানি (শহরের) বাইরে যাওয়ার পর্যাপ্ত পথ নেই। এই পথ তৈরি করাসহ অন্যান্য বিষয়গুলো সমাধানের জন্য আইডব্লিউএমকে কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।’
ডিএসসিসি বলছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রথমত জরিপ চালাচ্ছে আইডব্লিউএম। এই জরিপে কোন এলাকার কোথায় কী সমস্যা আছে, সেগুলো বের করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী প্রাথমিক প্রতিবেদনও সিটি করপোরেশনকে দিচ্ছে তারা। পরবর্তীতে ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) করে দেবে।
ডিএসসিসি প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানের প্রধান কাজ হবে- ড্রেনেজ সিস্টেমের কানেক্টিভিটি তৈরি করা, যেন পানি জমে না গিয়ে শহরের বাইরে বেরিয়ে যায়। যেমন ধরুন- কাকরাইল থেকে মৎস্য ভবন এলাকার ড্রেনের কোনো কানেক্টিভিটি নাই, এখানকার কানেক্টিভিটি তৈরি করা। ধরুন- নিউমার্কেট এলাকা, সেখানে মারাত্মক আকারের জলাবদ্ধতা হয়। সেখানে একটা আউটলেট করে আদি বুড়িগঙ্গায় পানি ফেলার ব্যবস্থা করা। তারপর ধরুন- বকশীবাজার বা গুলিস্তান এলাকার পানি সুয়ারিঘাট দিয়ে বুড়িগঙ্গায় ফেলতে একটা পথ তৈরি করা। মাস্টারপ্ল্যানে এরকম বেসিক কাজগুলো হবে। এর আওতায় আমাদের কতগুলো আউটলেট দরকার, এই কাজটাও চলছে।
‘ওই রকম স্টাডি করে আমাদের আপডেট করে দেবে আইডব্লিউএম। তারা একটা ডিপিপি করে দেবে এবং একটা ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক করে দেবে। এই কাজগুলো তারা করবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে, ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘আইডব্লিউএমের মাধ্যমে আমরা মাস্টারপ্ল্যানই করছি। এ কারণেই তারা ফিল্ড স্টাডি করছে। একটা মহাপরিকল্পনা বা মাস্টারপ্ল্যানে সেভাবে ফিল্ড স্টাডি করা হয়, এখানেও সেভাবেই ফিল্ড স্টাডি করা হচ্ছে। যেমন ধরুন- একটি ড্রেনেজ লাইন তিন কিলোমিটার। এখন ফিল্ড স্টাডি করে যদি শর্ট ডিসিশন দিতে পারে যে- এই পানিটা কোথায় চলে যাবে এবং সবচেয়ে কম খরচে হয়ে যাবে- এটাই তো মাস্টারপ্ল্যানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই কাজগুলোই তারা (আইডব্লিউএম) করে দেবে।’
গুলিস্তান থেকে সদরঘাট এবং শ্যামপুর খালের পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনে নতুন দুটি আউটলেট নির্মাণের যে কথা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলছেন, সেগুলো নতুন মাস্টারপ্ল্যানের অধীনেই কাজ চলছে বলেও ডিএসসিসি সূত্র জানায়।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করা আইডব্লিউএমের একাধিক জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, তারা মূলত প্রথমে জরিপের কাজ করেন। সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করেন। এরপর সমাধানে করণীয় নির্ধারণ করেন। এবং সেগুলোর ডিজাইন তৈরি করেন।
ডিএসসিসির পাঁচটি অঞ্চলে মাঠপর্যায়ের জরিপ করেছে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)। এরই মধ্যে সংস্থাটি প্রাথমিক প্রতিবেদন (ইনসেপশন রিপোর্ট) জমা দিয়েছে এবং একটি উপস্থাপনাও করেছে। ওই প্রতিবেদনে রাজধানীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জরিপে দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করা ৫৭টি সুইচ গেটের মধ্যে ৪০টিই অচল। কুতুবখালি খাল এলাকায় প্রায় সব ড্রেনেজ লাইনে বর্জ্য জমে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া ডিএসসিসি এলাকায় পানি নিষ্কাশনে বর্তমানে দুটি আউটলেট আছে। এগুলোর পাম্পিং স্টেশন কমলাপুর টিটি পাড়া ও ধোলাইখাল এলাকায়।
ডিএসসিসি জানায়, আইডব্লিউএমের প্রাথমিক জরিপে এই দুই আউটলেট ও পাম্পিং স্টেশন যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে। এগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি খালগুলোরও জরুরি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে আইডব্লিউএম। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ময়লা-আবর্জনায় অধিকাংশ খালের পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ইনিশিয়ালি যেগুলো করেছে, তার একটা প্রেজেন্টেশন আমাদের দিয়েছে আইডব্লিউএম। অন্যান্য এলাকাও স্টাডি করে তারা আমাদের ইনসেপশন রিপোর্ট দেবে। সার্ভে রিপোর্টও দেবে, এরপর ফাইনাল রিপোর্ট দেবে। ডিপিপিও করে দেবে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিকল্পনা ছিল একযোগে ১০টি অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়ন শুরু করার। এ জন্য প্রায় ৮ কোটি টাকার বাজেটও নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অর্থসংকটের কারণে আপাতত প্রথম ধাপে পাঁচটি অঞ্চলের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া বাকি পাঁচটি অঞ্চলের মাস্টারপ্ল্যান দ্বিতীয় ধাপে প্রণয়ন করা হবে।
ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘পুরাতন ৫টা ও নতুন ৫টা অঞ্চল নিয়েই এটা (মাস্টারপ্ল্যান) করার পরিকল্পনা ছিল। পরে দেখি আমাদের টাকার সমস্যা। ফান্ডে টাকা নাই। এটা নিজস্ব অর্থায়নে করতে হচ্ছে।’
আজিজুর রহমান বলেন, ‘ওনাদের (আইডব্লিউএম) বলেছি- ১ থেকে ৫ অঞ্চল ঘনবসতি এলাকা। এখানকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুব খারাপ, জলাবদ্ধতাও বেশি হয়। এগুলো আগে করে দেন। কারণ নতুন এলাকাগুলো এখনো ফাঁকা আছে, জলাবদ্ধতাও কিছুটা কম। তাই আপাতত পুরাতন ৫টা (অঞ্চল) করছি। পরে নতুন ৫টা (অঞ্চল) করব।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জানায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ নামে একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা ওয়াসা।
প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য ঢাকা ও আশপাশের পানি দূষণ কমানো। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও এই প্রকল্পে যুক্ত। এই প্রকল্পের অধীনেই মাস্টারপ্ল্যান করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
ডিএনসিসির জন্য প্রকল্পে ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। প্রকল্পটি শিগগিরই একনেকে উঠবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানতে চাইলে ডিএনসিসির সিভিল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) ফারুক হাসান মো. আল মাসুদ বলেন, ‘এই প্রজেক্টের অধীনে আমরা ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ করব। পূর্বের প্ল্যান রিভিউ হবে, আপডেট হবে। প্রয়োজনীয় বিষয় সংযোজন হবে। ফাইনালি নতুন মাস্টারপ্ল্যানে রূপ নেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াসার মাস্টারপ্ল্যানে অনেক খাল মিসিং ছিল। এগুলো নতুন মাস্টারপ্ল্যানে যুক্ত করা হবে। ড্রেনেজ সিস্টেমে যেখানে যা যা প্রয়োজন, সবই নতুন মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক হাসান বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এই প্রজেক্টে যুক্ত হলেও এর অধীনে মাস্টারপ্ল্যানের কাজ করছে না। প্রকল্পের আওতায় আমারই (উত্তর সিটি) মাস্টারপ্ল্যানের কাজ করব।’
প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাঠামো সম্পর্কে ডিএনসিসির এই প্রকৌশলী বলেন, ‘এই প্রজেক্টে একেকজনের একেকটা কাজ করবে। এটা পিডি হবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আর ডিপিডি হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে। কাজ বাস্তবায়ন যে যার মতো কাজ করবে। এখানে চারটি প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা অনেক বিষয় আছে। এভাবেই প্রকল্পের ডিজাইন করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন