প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : ওমানের নৌবাহিনী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে আগুন ধরে যাওয়ার পর ২৫ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে। অপরদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে তেহরান।
এএফপি’র খবর অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে, হরমুজ প্রণালী চলমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখানে চলাচলকারী জাহাজগুলো নিয়মিত ইরানের হামলার শিকার হচ্ছে।
ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পানামার পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘রিতি’ হামলার শিকার হয়ে আগুন ধরে যায়। এই অবস্থায়, ওমানের নৌবাহিনী ২৫ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উদ্ধার করা নাবিকদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘রিতি’ একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জানান, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রধান নৌপথ থেকে ইরানের পুঁতে রাখা সমুদ্র মাইন সফলভাবে অপসারণ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালির প্রধান নৌপথগুলো যেন মাইনমুক্ত ও নিরাপদ থাকে, তা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। কুপার জানান, তিনি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েন থাকা ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনার কয়েকটি অবস্থান পরিদর্শন করেছেন।
তিনি আগের বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করে বলেন, গত গ্রীষ্মকাল থেকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ১৫০ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, শুক্রবার ইরানের লাভান দ্বীপের প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল (৭৪ কিলোমিটার) দক্ষিণে একটি জাহাজ অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি জানায়, জাহাজটির নাবিকেরা নিরাপদ রয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবেশগত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
অবরোধ ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ
এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, কয়েকটি অনির্দিষ্ট ঘটনা কিংবা মাইনের আঘাতের কারণে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল দুটি তেলবাহী ট্যাংকার। এর মধ্যে একটি প্রণালির পূর্ব অংশে এবং অন্যটি পশ্চিম অংশে ছিল। এ সময় জাহাজ দুটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার মুখে পড়ে এবং প্রণালির দক্ষিণে জলসীমায় তাদের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে তাদের নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করতে হবে এবং যাত্রার আগে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
ওমানের উপকূলের কাছাকাছি দক্ষিণ দিকের একটি নৌপথকে ইরান অনুমোদনহীন বলে ঘোষণা করেছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ট্যাংকারগুলো তাদের নেভিগেশন ও অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সহায়তায় তারা অনুমোদনহীন পথ দিয়ে প্রণালি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
আইআরজিসির দাবি, শুক্রবারের ঘটনাগুলোর আগে জাহাজগুলোকে বেতার যোগাযোগের মাধ্যমে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে।
পরে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি সুপারট্যাংকারের চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সমুদ্র মাইনের আঘাতে বিস্ফোরণ ঘটলে জাহাজটি থেমে যায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘অনুমোদনহীন পথে চলাচলের চেষ্টা করার কারণে আজ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের শিকার হওয়া এটি তৃতীয় তেলবাহী ট্যাংকার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন