প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘গাঁজাখোর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান হাদীর জীবদ্দশায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিরোধ থাকলেও, তার মৃত্যুর পর তাকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি লেখেন, ঢাকা-৮ আসনে শহীদ ওসমান হাদীর বিপরীতে এনসিপি রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও বুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের তাকে ওই আসনে নির্বাচন না করার জন্য বলেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুবায়ের জানিয়েছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েম নির্বাচন করবেন।
রাশেদ খাঁনের দাবি, তখন শহীদ ওসমান হাদী বলেছিলেন, প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পেলেও তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। এ বিষয়ে ওসমান হাদীর ভাই ওমর হাদী ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, জুবায়ের বর্তমানে দেশে আছেন কি না।
জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন লেখেন, জীবদ্দশায় ওসমান হাদী এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট এবং জুলাইকে কুক্ষিগত করার মতো বিষয় তুলে ধরেছিলেন। তিনি জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলেও মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, শহীদ ওসমান হাদীর প্রতি আমাদের সকলের শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে এনসিপির গাঁজাখোর নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী যখন বলেন, জিয়াউর রহমানের চেয়ে হাদীর লড়াই বেশি শক্তিশালী, তখন আর কিছু বলার থাকে না। জামায়াত-এনসিপি ওসমান হাদীকে বিতর্কিত করতে ব্যবসায় নেমেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে শহীদ ওসমান হাদীকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়, সেই নোংরা পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই গাঁজাখোর নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এমন মন্তব্য করেছেন।
রাশেদ খাঁন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এই ধরনের বিতর্কে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে লেখেন, শহীদ ওসমান হাদী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতিকে আদর্শ হিসেবে ধারণ করে সংগ্রাম করেছেন। এ কারণে তাকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোনো উদ্যোগ সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে ওসমান হাদীকে দাফন করা নিয়ে পোস্টে নিজের মতামত তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবেরদের কিছু বক্তব্যের কারণে এ দাফন নিয়ে কারও কারও মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার একজন ব্যক্তির কবর দেওয়া নিয়ে বিতর্ক করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও লেখেন, আজকে সকালে শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সাথে টেলিফোনে কথা হচ্ছিলো, তিনিও বললেন, যেসময় কেউ কথা বলতো না, সে সময় নুর ভাই কথা বলতেন। একজন মৃত মানুষকে নিয়ে বিরোধীপক্ষ বিতর্ক করার সুযোগ পায়, এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। আমিও শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সঙ্গে একমত। আমাদের ভাই শহীদ ওসমান হাদীকে আমরা আজীবন হৃদয়ে ধারণ করবো, ইনশাআল্লাহ। তাকে যারা বিতর্কিত করতে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে, তাদের বিষয়েও আমাদের সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন